আজ রবিবার | ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ |৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি | সকাল ৭:০৬
জাহিদ ইকবাল : ঢাকার বুকে নিকুঞ্জ, একসময় তার শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই শান্তি হারিয়ে যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আগ্রাসনে। এই ছোট্ট এলাকাটি ভরে উঠেছিল কোলাহল আর বিশৃঙ্খলায়। অসহনীয় যানজট, শিশুদের অনিরাপদ স্কুলযাত্রা আর বিকট হর্নের শব্দে বিষিয়ে উঠছিল প্রতিটি সকাল। কিন্তু নিকুঞ্জবাসী এই পরিস্থিতির কাছে হার মানেননি। তারা নিজেরাই একজোট হয়ে ফিরিয়ে এনেছেন তাদের হারানো শান্তি।
প্রতিবাদ নয়, ছিল এক নতুন জাগরণ
নিকুঞ্জের মানুষরা বুঝতে পেরেছিলেন, তাদের সমস্যার সমাধানে বাইরের কোনো শক্তি আসবে না। তাদের নিজেদের উদ্যোগেই ফিরিয়ে আনতে হবে হারানো পরিবেশ। আর সেই উপলব্ধি থেকেই শুরু হয়েছিল এক স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ। এই আন্দোলনের ভিত্তি ছিল না কোনো রাজনৈতিক রং বা ব্যক্তিগত স্বার্থ। এর একমাত্র শক্তি ছিল নাগরিক চেতনা। নিকুঞ্জের মানুষরা একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল, তাদের এই ঐক্যবদ্ধ চেতনা জন্ম দেয় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—নিকুঞ্জ থেকে চিরতরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের ঘোষণা।
সাধারণ মানুষের হাতেই নেতৃত্বের ভার
এই পরিবর্তন কোনো একক নেতার নেতৃত্বে আসেনি। এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন গৃহিণী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তরুণ শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তাসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ। তারা ভয়কে জয় করে রাস্তায় নেমেছিলেন এবং নিজেদের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন। নিকুঞ্জের একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বলেন, “আমরা রাজনীতি করিনি, স্বার্থ দেখিনি—আমরা শুধু আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চেয়েছি।” এই কথাটিই যেন আন্দোলনের মূল দর্শন।
৪ মাস পর নিকুঞ্জ: এক নতুন সকালের গল্প
সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পেরিয়ে গেছে ৪ মাস। আজ নিকুঞ্জে সেই পরিবর্তনের ফল হাতে-কলমে দেখা যাচ্ছে:
* নির্বিঘ্ন পথচলা: রাস্তায় নেই অগোছালো অটোরিকশার ভিড়। দুর্ঘটনার খবর এখন নেই বললেই চলে।
* শিশুদের হাসি: শিশুরা এখন নিশ্চিন্ত মনে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারে। একজন অভিভাবক জানালেন, “আগে সন্তানকে একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পেতাম। এখন আর সেই দুশ্চিন্তা নেই।”
* শব্দদূষণহীন সকাল: ভোরে এখন আর কানে তালা লাগানো হর্ন শোনা যায় না, বরং শোনা যায় পাখির ডাক।
* নিরাপদ সন্ধ্যা: হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে বের হওয়া এখন এক স্বাভাবিক অভ্যাস।
এই গল্প শুধু অটোরিকশা বন্ধের নয়, এটি ঐক্যের শক্তির গল্প। এটি প্রমাণ করে, কোনো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই, শুধুমাত্র জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো পরিবর্তন সম্ভব। নিকুঞ্জ এখন শুধু একটি আবাসিক এলাকার নাম নয়, এটি এক মডেল, যা নাগরিক চেতনা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে সারাদেশে অনুকরণীয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও আহবায়ক, খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫ | |
ওয়াক্ত | সময় |
সুবহে সাদিক | ভোর ৫:২২ পূর্বাহ্ণ |
সূর্যোদয় | ভোর ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ |
যোহর | দুপুর ১২:৫৯ অপরাহ্ণ |
আছর | বিকাল ৪:২৬ অপরাহ্ণ |
মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:১৭ অপরাহ্ণ |
এশা | রাত ৮:৩৫ অপরাহ্ণ |