আজ রবিবার | ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ৮:৪০

শিরোনাম :

তারেক রহমানকে ‘ভাবী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান জটিলতা নিরসনে অনলাইনের পরিবর্তে সাংবাদিকদের ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান ভারতের সংসদে বুধবার শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর রাতে ঢাকা -১৮ আসনের ধানের শীষ এর কান্ডারি এস এম জাহাঙ্গীরের হাতে প্রতীক তুলে দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান । ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে: ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনী অতীতের মতো এবারো পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস তারেক রহমান ঢাকা -১৮ আসনের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিবনে : প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি

তারেক রহমানের যে সতর্কবার্তা দুর্গাপূজা উপলক্ষে!

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

আতিকুর রহমান রুমন ঃ- বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের হাতে বারবারই পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর অস্ত্রে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা অরক্ষিত অবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকাল- বিশেষত গত ১৬ বছর (২০০৯-২০২৪) সংখ্যালঘু নির্যাতনকে যেন এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। যখনই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তখনই সাজানো অভিযোগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দায় চাপিয়ে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। কোথাও সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে তার দায় বিরোধী দলের কাঁধে চাপানো হয়েছে; আবার কোথাও ধর্মীয় উসকানিকে অজুহাত বানিয়ে বিরোধী কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

ফলে সংখ্যালঘুদের দুর্দশা আওয়ামী লীগের কাছে হয়ে উঠেছে দ্বিমুখী ফায়দার খেলা- একদিকে বিরোধী রাজনীতিকে দমন করা, অন্যদিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে থেকেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দীর্ঘ একনায়কতান্ত্রিক শাসনামলে তারা নিছক নিপীড়নের শিকারই হয়নি, বরং সরাসরি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, তাদের আতঙ্কিত করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য করা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত কৌশল।

এতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আবার ভয় ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করা যায়। বিগত আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানাবিধ নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক মহলকে পর্যন্ত নাড়া দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা বারবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবু আওয়ামী লীগের শাসনামলে সন্ত্রাস, নির্যাতন, জমি দখল, নারী নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থেকেছে।

সংক্ষিপ্তাকারে নির্যাতনের কয়েকটি ভয়াবহ চিত্র-

২০০৯-২০১১ : দখল ও উচ্ছেদের সূচনাঃ আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতা শুরু হয়। সাতক্ষীরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের শত শত বিঘা ঘের দখল করা হয়, দিনাজপুরে উচ্ছেদ হয় ১১৩টি হিন্দু পরিবার, রাজশাহী ও নাটোরে ঘোষাল পরিবারসহ অসংখ্য হিন্দুর জমি দখল হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানায়, জমি দখলই তখন সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

২০১২ : ভয়ের শাসনঃ ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে প্রকাশ্যে খুন হন বিশ্বজিৎ দাস। কক্সবাজারের রামু-উখিয়ায় ফেসবুকের অজুহাতে বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দেওয়া হয়, শতাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়।

তদন্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। একই সময়ে সিলেট ও বাগেরহাটে হিন্দুবাড়িঘর ও দোকানপাট আক্রান্ত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে আখ্যা দেয়- ‘রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার ভয়ংকর নিদর্শন’।
২০১৩ : দেশজুড়ে অগ্নিসংযোগ ঃ নাটোর, বাঁশখালী, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, মৌলভীবাজার- সবখানেই মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পাবনার বনগ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার সঙ্গে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর নাম উঠে আসে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানায়, শুধু ২০১৩ সালেই ৫০০টিরও বেশি মন্দির ও ঘরবাড়ি আক্রান্ত হয়।

২০১৪-২০১৫ : নির্বাচনি সহিংসতার বলি সংখ্যালঘুরা: জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সংখ্যালঘুরা হয় মূল টার্গেট। পাবনা, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নাটোরসহ বহু জেলায় হিন্দুবাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ভয়াবহ আকার নেয়। ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুরা নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হয়। ’

২০১৬-১৭ : রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ার প্রমাণঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শতাধিক হিন্দুবাড়িঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ হয়। তদন্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড়িদের জমি দখল ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। টিআইবি মন্তব্য করে, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে এসব নির্যাতনে জড়িত, অথচ প্রশাসন তাদের আড়াল করে। ’

২০১৮-২০২০ : আতঙ্কের রাজত্ব: ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা হয়। ২০১৯ সালে সিলেট ও মৌলভীবাজারে জমি দখল, পাহাড়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়। ২০২০ সালে নোয়াখালীতে হিন্দু নারী লাঞ্ছনার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মন্তব্য করে ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ’

২০২১ : ভয়াবহতম সহিংসতা: ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, ফেনীসহ বহু জেলায় মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে আগুন ও প্রাণহানি ঘটে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তদন্তে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা এক ব্যক্তি ছিলেন সেই নাটকের নায়ক। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার চাইলেই মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি শান্ত করতে পারত কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা তা করেনি। বরং জনগণের চোখে ভয়ের ছায়া আঁকতে দিয়েছে, আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বুক ভেঙেছে ক্ষতচিহ্নে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তখন একে আখ্যা দেয় ‘অরগানাইজড পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ ঘটনায় জানিয়েছিলেন ‘সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা ও পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ’

২০২২-২৩ : অব্যাহত দমননীতিঃ কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বরিশাল ও গাইবান্ধায় মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল ও নারী লাঞ্ছনা হয়। ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইলে সংখ্যালঘু বাড়িঘরে হামলা হয়, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়, পার্বত্য এলাকায় প্রাণহানি ঘটে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রিপোর্টে বলা হয় ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত অন্তত চার হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

২০২৪ : নির্বাচনের আগুনে পুড়ে যাওয়া জীবন: জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লা, যশোর, পাবনা, চট্টগ্রামসহ বহু জেলায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ঘটে। তৈরি হয় এক ধরনের গণহত্যার পরিস্থিতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল জানায়, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার। ’

শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়াঃ শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে। তবু শেষ রক্ষা হয়নি শেখ হাসিনার। ৫ আগস্ট, ২০২৪ কাপুরুষের মতো তিনি ভারতে পালিয়ে গেলে অবসান হয় দীর্ঘ স্বৈরশাসনের। কিন্তু লজ্জাজনক পলায়নের পরও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে এতটুকু অনুশোচনার জন্ম হয়নি বরং তারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। ৫ আগস্ট পতনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ রয়েছে প্রতিশোধের আশায়। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে বসে এবং প্রতিবেশী সরকারের সহায়তায় নতুন করে ষড়যন্ত্রের কারখানা চালু করেছে সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন)। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয় থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নানা কর্মপরিকল্পনা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ভাড়া করা লোক দিয়ে ঝটিকা মিছিল থেকে শুরু করে ছিনতাই-ডাকাতিসহ আরও নানাবিধ অপকর্ম সংঘটিত করছে। এসব অপকর্মে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশেষত জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন বানচালে এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দুমন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দু নারীদের লাঞ্ছনা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার টার্গেট নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তারেক রহমানের দূরদৃষ্টি ও সতর্কবার্তাঃ পৃথিবীতে অনেক দূরদর্শী মানুষ আছে, যারা অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহ অনুমান করতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই বিরল ও কৌশলী নেতার নাম তারেক রহমান। ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা চুপচাপ বসে নেই; বরং ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। ’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অতীতের মতোই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হবে। আর সেই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হতে পারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জনগণের বিশ্বাস ও আবেগকে ঘিরে এমন নোংরা রাজনৈতিক খেলায় আওয়ামী লীগের ইতিহাস নতুন নয়। ঐতিহ্যগতভাবে সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের মাধ্যমে এ দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনুপম দৃষ্টান্ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, পলাতক স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা এই উৎসব ঘিরে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপকর্ম চালিয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্রের অবসান হয়নি। তাই এবারের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ’ দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন প্রমাণ করেছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন ছিল না কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা; এটি ছিল ক্ষমতাসীনদের পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয়। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদ রক্ষায় এখনই সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অতীতে যেভাবে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে আওয়ামী লীগ, সেই ষড়যন্ত্র এবারও এই দুর্গাপূজায় ঘটতে পারে। তাই শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটতে দেওয়া যাবে না।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, আহ্বায়ক, আমরা বিএনপি পরিবার ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল

এক্সক্লুসিভ বাংলাদেশ রাজনীতি লেখকের কলাম

আরও পড়ুন

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

  • আর্কাইভ

    ঢাকা ১৮ আসনে একাধিক গার্লস স্কুল কলেজ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হবে : স্বামীর পক্ষে প্রচারণায় রাজিয়া সুলতানা

    নেপালের পোখরায় ভুটানকে গোল বন্যায় ভাসিয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ

    মৃতদেহ দেখে প্রচারণা থামালেন আমিনুল হক: অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত

    ফরিদগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিস্কার করলো বিএনপি

    ৫০ নং ওয়ার্ড ব্যাপক গণসংযোগ: বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জনগণ এর ভাগ্য বদল হবে – এস এম জাহাঙ্গীর

    তারেক রহমানকে ‘ভাবী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান

    বগুড়ায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের হুইল বিতরণ করলেন তারেক রহমান

    ঢাকা-১৬ আসনে ভোটের দিনে বয়োবৃদ্ধদের জন্য রিকশার ব্যবস্থা থাকবে: আমিনুল হক

    মানবিক ঢাকা ১৮-আসন গড়ার এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে উত্তরায় ব্যাপক গণসংযোগ এস এম জাহাঙ্গীরের

    জটিলতা নিরসনে অনলাইনের পরিবর্তে সাংবাদিকদের ম্যানুয়ালি কার্ড ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)

    ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

    “বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোয় মুয়াজ্জিনকে অব্যাহতি”- সেই মুয়াজ্জিনের পাশে দাড়ালেন তারেক রহমান

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ এবং পদ্মা নদীর ওপরে ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান

    সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলা হবে—- খিলক্ষেতে ধানের শীষের প্রার্থী জাহাঙ্গীর

    ঢাকা -১৬ আসনে ধানের শীষের প্রচারণা তুঙ্গে : স্থায়ী পুনর্বাসন ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের

    ভারতের সংসদে বুধবার শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে

    ত্রয়োদশ জাতীয়  সংসদ নির্বাচন : ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে মস্তুল, খিলক্ষেত এলাকায় যৌথবাহিনীর টহল শুরু

    ঢাকা–১৪ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার ও আচরণবিধি প্রতিপালন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    গভীর রাতে ঢাকা -১৮ আসনের ধানের শীষ এর কান্ডারি এস এম জাহাঙ্গীরের হাতে প্রতীক তুলে দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ।

    ভোটকেন্দ্রে কলম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট নষ্ট করার আশঙ্কা থাকে: ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ

    নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনী অতীতের মতো এবারো পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    মিরপুরে গণসংযোগে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ আমিনুল হকের

    উলিপুরকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে আমার একটি স্বপ্ন রয়েছে  এবং আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে- তাসভীর উল ইসলাম

    তারেক রহমান ঢাকা -১৮ আসনের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিবনে : প্রস্তুতি সভা করেছে বিএনপি

    ৪৯ নং ওয়ার্ডেই হাজি ক্যাম্প , হাজীদের সেবা করতে পারলে মনে করতে হবে সারা দেশের মানুষের সেবা করা :এস এম জাহাঙ্গীর

    সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতিই বিএনপির শক্তির প্রমাণ: আমিনুল হক

    এবার সুযোগ এসেছে ধানের শীষের পার্থীকে জয় করে এনে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে দেয়ার : দক্ষিণখানে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় এস এম জাহাঙ্গীর

    কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতাকে গুলি করে হত্যা : মির্জা ফখরুল’র নিন্দা, প্রতিবাদ ও শোক বিবৃতি

    দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপি’র যে ৬২জনকে বহিস্কার


    • রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
      ওয়াক্তসময়
      সুবহে সাদিকভোর ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
      সূর্যোদয়ভোর ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
      যোহরদুপুর ১:১২ অপরাহ্ণ
      আছরবিকাল ৪:২২ অপরাহ্ণ
      মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
      এশা রাত ৮:০২ অপরাহ্ণ
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুল হাসান বাবলু
    ই-মেইলঃ dk.kamrul@gmail.com
    copyright @ বাংলাদেশ দিনকাল / বিডি দিনকাল ( www.bddinkal.com )
    বিডি দিনকাল মাল্টি মিডিয়া (প্রা:) লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।