আজ সোমবার | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২১শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি | বিকাল ৪:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ৮ দিন আগে নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ও তুলনামূলকভাবে ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে—এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। তুলনামূলকভাবে ভালো আছে তো অবশ্যই বলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী তাদের নেতৃত্বের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমরা আবেদন জানাই, তারাও একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য তারাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং তাদের তরফ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তারা সেটাই গ্রহণ করবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুই ভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা হয় আজ বেলা ১১টায়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ে সর্বশেষ আমাদের যে প্রস্তুতি এবং সেই প্রস্তুতি সম্পর্কে জাস্ট আমরা অবহিত হলাম।’
এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকেই যাচ্ছে, দুই প্রার্থীর শীর্ষ নেতারাও পরস্পর বিরোধী কথা বলছে—এই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে-জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সমস্ত বাংলাদেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তাছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
‘কাজেই আমরা মনে করি, যে কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং জুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন,’ যোগ করেন এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘উনি (ম্যাজিস্ট্রেট) কোনো একটা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে, তথ্যের ভিত্তিতে বা ওই কমিটির নিকট যদি কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করে, অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা কোনো রিপোর্টের ভিত্তিতে ইলেক্টরাল ইনকয়ারিয়াম এক্সিকিউটিং কমিটি এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে, তারা বিষয়টিকে কগনিজে নেবেন এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা তদন্ত সাপেক্ষে কমিশনের নিকট তাদের প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন, রিকমেন্ডেশন সুপারিশ প্রেরণ করবে, সেই মোতাবেক তাদের শাস্তি দেয়া হবে বা তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, বহু ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানা করেছেন।
যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে-জানতে চাইলে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা আইন ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, তাহলেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।’
এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘আর যদি খুব গুরুতর কোনো বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেও তা আমলে নিতে পারেন এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিতে পারে।’
কোনো প্রার্থী যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণবিধি ভঙ্গ হয় কিনা- জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। দুর্ব্যবহার কী ধরনের দুর্ব্যবহার, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।’
ঢাকা-১৭ আসনে একজন প্রার্থী সেনাবাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং যেখানে আর্মস নিয়ে যাওয়ার কথা না, সেখানে জোরপূর্বক যেতে চাইছে এবং একটা বাহিনীকে খুব অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলেছে, সে ক্ষেত্রে এটা আচরণবিধি ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কিনা, জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘বিষয়টা সবই তদন্তের বিষয়। কেউ যদি ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। সেই কমিটি ঘটনার সত্যটা যদি পান এবং যদি দেখেন যে কেউ কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রার্থী বা কোনো ভোটার যেকেউ হোক তিনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তিনি প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ করবেন এবং কমিশন সে মোতাবেক তারপর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর ওই আসনের নির্বাচন বাতিল প্রসঙ্গে ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তফসিল ঘোষণা করতে হবে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিয়ে। আপিলের সময় আছে, স্ক্রুটিনির সময় আছে, কাজেই এই নির্বাচন কখন হবে এই মুহূর্তে এখন আমরা ঘোষণা দিতে পারছি না।’
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ |
| যোহর | দুপুর ১:১৩ অপরাহ্ণ |
| আছর | বিকাল ৪:২৬ অপরাহ্ণ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:৫০ অপরাহ্ণ |
| এশা | রাত ৮:০৭ অপরাহ্ণ |