আজ বুধবার | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ২:২৬

ভোটারদের হাতের আঙ্গুলের কালি এখনো শুকায়নি। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হলো বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম প্রতিশ্রুতি।
গতকাল ১০ মার্চ মঙ্গলবার ল্যাপটপের বাটন টিপে দেশের ১৪টি জেলায় একযোগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের পাশাপাশি জনগণকে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন না করার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচিত প্রকল্পটি উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর বনানী এলাকার টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কড়াইল, সাততলা ও ভাষাণটেক বস্তি এলাকার ১৭ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মঞ্চে রাখা ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে একযোগে ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীর বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২৫০০ টাকা জমা হয়ে যায়। এরপর টাকা পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দু’জন নারী।
এদিকে পাইলটিং কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারীকে এই কার্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষাণটেক বস্তির ১৫ হাজার নারীকে কার্ড দেয়া হয়। এছাড়াও গতকাল মিরপুর অলিমিয়ারটেক ও বাগানবাড়ী বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনায় খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচি একযোগে চালু করেন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও দলের নেতারা।
নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে চাই: উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দিনটি ব্যক্তিগতভাবে খুবই ইমোশনাল। কারণ এখানে আজকে যারা আপনারা অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, এখানে কিছু মানুষ উপস্থিত আছেন যাদের সঙ্গে বিগত অনেকগুলো বছর ধরে আমি বসে বসে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যে কীভাবে যখন সময় আমরা সুযোগ পাবো, জনগণের সমর্থন পাবো সেই ফ্যামিলি কার্ডটিকে আমরা বাস্তবায়ন করবো।
আল্লাহতাআলা রাব্বুল আলামীনের রহমতে আজকে আমাদের সেই দিনটি উপস্থিত। যেই দিনে আমরা আমাদের এই অঙ্গীকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি। সেজন্যই আজকে আমার জন্য যেমন একটি ইমোশনাল দিন, আমি মনে করি আমার সরকার এবং আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং একটি ইমোশনাল দিন আজকে। সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পারেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই দেশটি আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু একইসঙ্গে আমরা যদি বাস্তবতা বিবেচনা করি এবং সমসাময়িক ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিস্থিতি সকল কিছু যদি বিবেচনা করি তাহলে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র আমরা অবস্থান পরিবর্তন করবো না। হয়তো সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে হয়তো আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য। সেজন্যই আজকে আমি সকলকে অনুরোধ করবো, এখানে যে সকল এলাকাবাসী উপস্থিত আছেন আপনাদেরকে, আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে যে, আসুন আমরা ধৈর্যের সঙ্গে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবিলা করি, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে সুন্দরভাবে আমাদের এই দেশটিকে গড়ে তুলি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক জনসংখ্যা হচ্ছে নারী। সরকারের ভাবনা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যদি এই এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রাখা হয়, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হয়, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তারেক রহমান বলেন, আপনাদের নিশ্চয়ই সকলের খেয়াল আছে। এর আগে বিএনপি সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সেই সময় সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের শিক্ষাব্যবস্থা স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার গঠনের আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি কীভাবে নারীদেরকে আমরা ক্ষমতায়ন করবো, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে গড়ে তুলবো এবং তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমিকভাবে ইন্ট্রোডিউস শুরু করলাম।
‘ফ্যামিলি কার্ডের’ পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে সেই চার কোটি পরিবারের যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।
আগামী মাসের মধ্যে দেয়া হবে কৃষি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চান তারা। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে চায় বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারই একটি অংশ হিসাবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করবো। আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন আমরা আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমরা আরও কিছু প্রতিশ্রুতি করেছিলাম তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রয়োজন ছিল তার মধ্যে আরেকটি আছে কৃষক কার্ড, সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে যাদের কৃষিঋণ মওকুফ করবো। আল্লাহর রহমতে আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ সরকারের পক্ষ থেকে করে দেয়া হয়েছে সুদসহ। এইভাবে আমরা জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে যেকোনো মূল্যে পূরণের চেষ্টা করবো।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। দলমত নিবিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কার্ড পাবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বক্তব্য রাখেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবু ইউছুপ ফ্যামিলি কার্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, কূটনীতিকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন। কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না। এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৫৭ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:১৩ |
| যোহর | দুপুর ১:০৯ |
| আছর | বিকাল ৪:৩২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:০৫ |
| এশা | রাত ৮:২০ |