আজ বৃহস্পতিবার | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ৯:১৩

মোঃ ইসমাইল, হাইমচর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৮ কোটি টাকার ফেরো সিমেন্ট স্ল্যাব নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে খবর চাউর হয়েছে, অনুসন্ধানে তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো প্রপাগান্ডা হিসেবে পাওয়া গেছে। মূলত টেন্ডার বঞ্চিত একটি অসাধু ঠিকাদার চক্র এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।
ঘটনাস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রকৃত সত্য- গত কয়েকদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল যে, মতলব উত্তরের ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পাউবোর প্রকল্পের স্ল্যাব নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে। তবে সরেজমিনে পরিদর্শন, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফরাজীকান্দি মাঠে বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকল্পের কাজই চলমান নেই। পাউবোর যে ৮ কোটি টাকার প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, তার অবস্থান ফরাজীকান্দি থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে মতলবের কালীপুর এলাকায়। একটি দূরবর্তী স্থানের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডকে সরকারি বড় প্রকল্পের সাথে গুলিয়ে ফেলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত কাজকে ‘সরকারি’ বলে চালানোর চেষ্টা- ফরাজীকান্দি মাঠে যে স্ল্যাবগুলো তৈরি হতে দেখা গেছে, সেগুলো কোনো সরকারি প্রকল্পের অংশ নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের উদ্ধৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে জনাব আজিজ নামের এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছু স্ল্যাব তৈরি করেছেন। যেহেতু এটি কোনো সরকারি বরাদ্দ বা টেন্ডারের কাজ নয় এবং স্থানটি পাউবোর অধিগ্রহণকৃত নয়, তাই এই বিষয়ে দাপ্তরিক অনুমোদনের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। পাউবো কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য –ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং দশ গ্রাম পানি ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি জনাব ইয়াসিন মোল্লা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা জনাব গনি তপদার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:”এখানে বর্তমানে পাউবোর কোনো কাজ চলছে না। এখলাছপুর শাখার ফেরোসিমেন্টের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। যদি সরকারি কোনো কাজ চলতো, তবে স্থানীয় তদারকি কমিটির সভাপতি হিসেবে আমরা অবশ্যই জানতাম। এটি কেবলই কুচক্রী মহলের অপপ্রচার।”
প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থান- সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তদন্ত সাপেক্ষে জানিয়েছেন, ফরাজীকান্দিতে স্ল্যাব নির্মাণের সাথে পাউবোর বা ৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। এবিষয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির এন্ড কোং এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় ফরাজিকান্দি এলাকায় তাদের কোনো কাজ চলমান নেই এবং প্রকৌশলী জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন এর সাথে আমাদের কাজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই ।তাছাড়া তারা আরো বলেন যে, প্রকৌশলী যদি কোন কাজে সঠিকভাবে তাদারকি করে তাহলে তাদের উপরে আঘাত করা হয় যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকৌশলীকে ঠিকাদার কর্তৃক বাঁশ দিয়ে পেটানো। সুতরাং কারো ব্যক্তি স্বার্থের আঘাত ঘটলেই সে অফিসের বিরুদ্ধে লেগে যায়।
অন্যদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব জাহাঙ্গীর হোসেনের বদলিকে এই ঘটনার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই । নথিপত্র বলছে, তার বদলি একটি নিয়মিত সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে জনাব জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “আমার আওতাধীন ফেরোসিমেন্ট সিট তৈরির কাজ গত বছর নভেম্বরে শেষ হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অসাধু ঠিকাদার চক্র অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।”
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:১৯ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৩৭ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৮ |
| আছর | বিকাল ৪:২৬ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:২০ |
| এশা | রাত ৮:৩৮ |