আজ মঙ্গলবার | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১২:৩৯

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো মানুষ গড়ার কারিগর তৈরির স্থান, আর সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান যখন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন তখন সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আর তার খারাপ প্রভাব জাতীয়ভাবেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এমনই একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার ‘সুবিদখালী মহিলা কলেজে’র অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে। চাকরি দেয়ার নাম করে একাধিক ভুক্তভোগী মির্জাগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেয়ার পরে এখন আবার আরেক ভুক্তভোগী উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের হুমায়ুন কবীর মোল্লা মির্জাগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, মামলা নং- ১৭৬/২৬।
মামলার সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবদুর রহমান গত ২১/১১/২০১৮ইং তারিখে বাদী হুমায়ুন কবীর মোল্লার কাছে থেকে ‘সুবিদখালী মহিলা কলেজে’ ০৬ (ছয়) মাসের মধ্যে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ৭ লক্ষ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে একাধিক স্বাক্ষীদের সম্মুখে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন আবদুর রহমান। যা চাইতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-দামকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ আবদুর রহমান।
এ ছাড়াও অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ২০২৬ইং সালের মার্চ মাসের ২ তারিখে পটুয়াখালীর বাসিন্দা মো: বেলাল উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী মির্জাগঞ্জ থানায় তার কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে পর্যায়ক্রমে ১৩ লক্ষ টাকা নিয়ে চাকরি না দেয়ায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ নং- সিএল-১৫০, তারিখ-০২-০৩-২০২৬ইং।
গত ৩০-০৪-২০২৬ইং তারিখে আবার আরেক ভুক্তভোগী মির্জাগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের মজিবুল হক শানুর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে ২ শতাংশ জমি (যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা) আত্মাসাতের অবিযোগ এনে মির্জাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শুধু এখানেই শেষ নয় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যপক দূর্ণীতির অভিযোগ তথ্য গোপন করা ,রেজুলেশন বই সরবরাহ না করা,বরখাস্তকৃত ও পদত্যাগকৃত শিক্ষককে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেয়া, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকা এবং নিয়মনীতি অনুসরন না করেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার এসব অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় পর পর দুই বার মোঃ আবদুর রহমান এর MPO কেন বাতিল করা হবে না মর্মে ০৫ (পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে কারণদর্শানোর জন্য নোটিশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। যার স্মারক নং-(১) ৭জি ৪৬২(ক-৩)/২০০৬ (৭-১)/১৭৮০/৫, তারিখ-২৭/০৪/২০২৩ইং। স্মারক নং- (২) ৭ক্তি-৪৬২ (ক-৩)/০৬ (অংশ-১)/৪১৯৩/৫, তারিখ:১৩/০৮/২০২৩ খ্রি, রেফারেন্স – আঞ্চলিক পরিচালক বরিশাল এর স্মারক নং: মাউশি/বরি/২০২১/৩৬৩ তারিখ: ২৩/০৯/২০২১ খ্রি, রেফারেন্স – মাউশি অধিদপ্তরের স্মরক নং- ৭জি-৪৬২(ক-৩)/২০০৬ (অংশ-১)/১০৫৬/৪: তারিখ: ০৬/০৪/২০২২খ্রি।
অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের হাত থেকে বাদ যায়নি মরা মানুষও! তার কলেজের বাংলা বিভাগের ৩০০৯০১৩ ইনডেক্স নম্বরধারী প্রভাষক আব্দুস সালাম মোল্লা ২০০৫ সালে মারা যান, নিয়ম অনুযায়ী তার নাম এমপিও তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিধান থাকলেও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে প্রায় ৭ বছর ধরে (২০০৫-২০১২) তার নামের বেতন ভাতা তুলে সকল টাকাই তিনি আত্মসাৎ করেন। যার পরিমান ছিল ৯ লাখ ৪০ ছাজার ৬০০ টাকা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকায় প্রায় ৬ বছর ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তার পরেও তিনি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয়সহ আলিশান বাড়ি করছেন যা সম্পূর্ন অবৈধ টাকায়।
সকল অভিযোগকারী ও থানায় মামলাকারী ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে সকলেই তাদের থেকে আত্মসাত করা টাকা ও জমি ফেরতসহ কঠোর প্রতিকার চেয়েছেন।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান বলেন, একটি স্বার্থন্বেষী মহল আমাকে হয়রানি করার জন্য থানায় এবং আদালতে অভিযোগ দিয়েছে। এখানে একই সঙ্গে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সকল জমি আমার ও জমি দাতাদের। দখল করা কোন জমি নেই, তবে মাপ-জোখ করার পরে যদি কেহ এর মধ্যে জমি পেয়ে থাকে তাহলে আমি ৫ মিনিটের মধ্যে জমি ছেড়ে দিব। বেতন-ভাতা বন্ধ ও অন্যান্য দূর্ণীতির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার একটি মামলা চলমান রয়েছে এটি একটি ভিন্ন ব্যাপার।
মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, মামলাসহ সকল অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে , তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:০২ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:২৩ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৫ |
| আছর | বিকাল ৪:২০ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:২৮ |
| এশা | রাত ৮:৪৯ |