আজ শুক্রবার | ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ |৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি | সন্ধ্যা ৬:০৭
বিশেষ প্রতিনিধি কুয়েত : এক দিনে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তিন কর্মচারী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এমন তথ্য দূতাবাসের ফেইসবুক পেইজে নোটিশ আকারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে । এই নোটিস গুলোতে সাক্ষর রয়েছে কাউন্সিলর ও দুতলায় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর ।
স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা ব্যক্তিদের মধ্যে রোয়েছে (১) কনসুলার সহকারী মো: আবুল কালাম । তিনি চাকরিতে যোগদান করেন ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি । প্রায় সাড়ে ১৩ বৎসর একটানা তিনি কনসুলার শাখায় কোজ করেছেন । গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ ইং স্বেচ্ছায় তিনি তার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন । (২) অনিয়মিত শ্রমিক মো:বোরহান উদ্দিন ।কাজে যোগদান করেন ২ জানুয়ারি ২০২৪ ইং। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ১৪ আগস্ট ২০২৫ ইং । চাকুরীতে তার বয়সকাল ১ বৎসর ৮ মাস। (৩) অনিয়মিত শ্রমিক মো: ইমরান হোসেন কাজে যোগদান করেন ২ জানুয়ারি ২০২৪ ইং। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ১৪ আগস্ট ২০২৫ ইং । চাকুরীতে তার বয়সকাল ১ বৎসর ৮ মাস।
এই তিনজনের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে দূতাবাসের কাউন্সিলর কর্তৃক গ্রহণ স্বাক্ষরিত হয় ১৭ আগস্ট ২০২৫ ইং রবিবার ।
হটাৎ করে একদিনে এই তিনজন এর পদত্যাগ এর বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক ঝড় তুলে দূতাবাসের পেইজেও অনেক প্রবাসীকে নানা মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে ।
অনেকে এটাকে নেতিবাচক নিলেও এর ভিতরে যে কোনো এক অজানা কাহিনী রয়েছে তা নিয়ে অনেক প্রবাসী ধারণা করছে । অনেকে বলেছেন , পদত্যাগ কারী ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার কথা না । নিশ্চই কোনো ঘটনা ঘটেছে যা জনসম্মুখে আনছেন না দূতাবাসের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ । এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ।
উল্লেখ্য এর আগে দূতাবাসে কর্মরত আরো দুইজন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন । যার মধ্যে অনিয়মিত শ্রমিক নূর মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন ১ আগস্ট ২০২৫ ইং । তিনি চাকরিতে যোগদান করেন ২ জানুয়ারি ২০২৪ ইং । অন্যজন হলেন স্টেনো টাইপিস্ট হিসেবে কর্মরত মিস উম্মে সালমা । তিনি চাকরিতে যোগদান করেন গত ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি। স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন ১ আগস্ট ২০২৫ ইং । এই আগস্টে এই নিয়ে মোট ৫ জন কর্মচারী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন ।
এদিকে দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দুতলায় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন , হে তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন ।
ইতিমধ্যে অনেক প্রবাসী বলছেন , এই দূতাবাসে বহু বছর ধরে অর্থাৎ আওয়ামী শাসনামল থেকে যারা ঘাঁটি গেড়ে বসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে দুর্নীতি করে যাচ্ছে তারাতো পদত্যাগ করছে না এমনকি তাদেরকে চাকরিচ্যুতও করছে না কর্তৃপক্ষ । যে সব কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ তারা নির্ধিদায় নিশ্চিন্তে বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে দূতাবাসে । ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা চার পান্ডব হিসেবে ক্ষেত মো: ফরিদ হোসেন , তৌহিদুল ইসলাম মজুমদার , মোহাম্মদ জসিম ও মো: আনোয়ার । এই চার পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে সংবাদ হয়েছে এমনকি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা । ২০০৬ ইং থেকে চাকুরীর সুবিধার্থে তারা দূতাবাসে থেকে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য করে নামে বেনামে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছে । আওয়ামী শাসনামলে এরা অপ্রতিরুদ্ধ ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যা এখনো বহাল রয়েছে ।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত সহ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষরা দূতাবাসে আসে আর যায় । কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাই ওই চার পান্ডব । পতিত স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী সমর্থিত অনেককেই ক্ষমতাচ্যুত হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু কেন কি কারণে এখনো দূতাবাসে তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে তা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে । প্রবাসীরা মনে করছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত তাদের বিদায় করবেন দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।
শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ | |
ওয়াক্ত | সময় |
সুবহে সাদিক | ভোর ৫:২২ পূর্বাহ্ণ |
সূর্যোদয় | ভোর ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ |
যোহর | দুপুর ১২:৫৯ অপরাহ্ণ |
আছর | বিকাল ৪:২৭ অপরাহ্ণ |
মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:১৯ অপরাহ্ণ |
এশা | রাত ৮:৩৭ অপরাহ্ণ |