আজ রবিবার | ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১০:২৯

সখিপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই চলছে প্রায় শতাধিক অবৈধ করাতকল। এসব করাতকলে সাবাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের শাল গজারি কপিচ সহ মূল্যবান বৃক্ষ । নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে উঠেছে বেশকিছু করাতকল। এ কারণে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব অবৈধ করাতকল থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দু একটি অবৈধ করাত কল উচ্ছেদ করার সময় অন্যান্য করাতকলগুলো বন্ধ হয়ে যায়,উচ্ছেদ অভিযান শেষ হলেই পুনরায় পুরো দমে করাত কলগুলো চালু হয়ে যায়। স;মিল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ অনুযায়ী, কোনো মালিক লাইসেন্স না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন না। আর লাইসেন্স নেওয়ার পর প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে। কিন্তু তা মানছেন না বেশিরভাগ করাতকলের মালিক। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১২ কিলোমিটারের মধ্যে কোন করাতকরলে লাইসেন্স দেওয়া হয় না।আইনের তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতরেই গড়ে উঠেছে শতাধিক করাকল। সখিপুর পৌরসভায় রয়েছে ২৯ টি করাতকল।এর মধ্যে ১০-১২টি নিয়মিত লাইসেন্স রয়েছে বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। পৌরসভার ভিতর করাত কল স্থাপনে বাধা না থাকলেও অথচ পৌরসভার ভিতরেই রয়েছে বন বিভাগের জমি।
পৌরসভার বাইরে যেসব করাত কল রয়েছে সেগুলো হল , উপজেলার কুতুবপুরে পাঁচটি, বড়চওনায় ৭টি,আবেদনগর একটি, দাড়ি পাকা একটি, দেবরাজে দুটি, ইন্দারজনি দুটি, গড়বাড়ি তিনটি, হামিদপুর একটি, বাঘের বাড়ি একটি, দুর্গাপুর তিনটি, মহানন্দপুর একটি, কাকড়াজান দুইটি, ডাবাইল পাড়া দুইটি, গোয়াইলবাড়ি দুইটি, আবাদি একটি, নাকশালা একটি আকন্দ পাড়া একটি, বেড়বাড়ি দুইটি,নলুয়া চারটি, তক্তারচালা সাতটি,চতলবাইদ তিনটি, হতেয়া তিনটি, হতেয়া কাজীপাড়া একটি, ভাতকুরা চালা দুটি, কালমেঘা তিনটি, সলঙ্গা একটি, বহরিয়া দুটি, দেওদীঘি দুটি, কাশেম বাজার দুটি, কামালিয়া চালা দুটি, রতনপুর জসিম বাজার দুটি, দারিয়াপুর জিনের বাজার একটি, বেতুয়া একটি, দেবরাজ একটি, আড়াইপাড়া তিনটি, গায়ের মোর একটি, হারিঙ্গা চালা একটি, খায়ের মোড় একটি, কালিদাস একটি,চতলবাইদ বেকপাড়া একটি, আরো কয়েকটি নতুন স্থাপন করা হচ্ছে। এ রকম উপজেলায় পৌরসভার বাইরে শতাধিকের উপরে স মিল (করাতকল) আছে। এর মধ্যে পৌরসভায় ১২টির লাইসেন্স আছে। সম্প্রতি কয়েকজন লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করেছেন।করাতকল ঘুরে দেখা গেছে, মিল চালানোর ক্ষেত্রে বিধিবিধান মানছেন না করাতকলের মালিকরা। অনেকেই ১০-১৫ বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছেন করাতকল। করাতকলের চত্বরে মজুত রাখছেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কাঠ কাটার কাজ। এ সময় সরকারের অনুমোদনহীন এসব করাতকল বন্ধ করার কোনো উদ্যোগও চোখে পড়েনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি করাতকল থেকে স্থানীয় বন বিভাগ ২০০০-৫০০০ টাকা করে মাসিক চাঁদা নেয়। যে টাকা বিট অফিসার থেকে শুরু করে রেঞ্জারের পকেটে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক করাতকল মালিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের স মিল চলছে। আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও অনুমোদন পাইনি।’ তাহলে এখন কীভাবে কল চলছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজনকে ম্যানেজ করে মিল চালাচ্ছি।’তাদের মাসিক চাঁদা দেই। কখনো যৌথবাহিনীর সমন্বয়ে করাকল উচ্ছেদ অভিযানে বের হলে আমাদেরকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়।
কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, ‘আমরা কাঠের ব্যবসা করি। এই ব্যবসা করে আমাদের সংসারের খরচ চলে। মিলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। আমরা দেখি, মাঝেমধ্যে বন বিভাগের লোকজন এসে মিল থেকে টাকা নিয়ে যায়। এতে মিল মালিকদের আর কোনো ঝামেলা হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন কাঠ ব্যবসায়ী রফিক ও তৈয়ব মিয়া।
এ বিষয়ে বহেড়াতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ অভিযান আমাদের অব্যাহত আছে।
রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:২২ পূর্বাহ্ণ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ |
| যোহর | দুপুর ১:১২ অপরাহ্ণ |
| আছর | বিকাল ৪:২২ অপরাহ্ণ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:৪৫ অপরাহ্ণ |
| এশা | রাত ৮:০২ অপরাহ্ণ |