আজ শনিবার | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | ভোর ৫:৫৯

শিরোনাম :

মির্জা আব্বাসকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সরকারের সমালোচনা করতে বিরোধী দলকে সব বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে: জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন পবিত্র কোরান তেলোয়াত এর মধ্যে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে ‘আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক : প্রথম অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) সভাপতি করে সংসদের বিশেষ স্থায়ী কমিটি গঠন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-এর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন সৌজন্য সাক্ষাৎ সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর বণ্টন- মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আযম খান, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

তারেক রহমানের যে সতর্কবার্তা দুর্গাপূজা উপলক্ষে!

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

আতিকুর রহমান রুমন ঃ- বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আওয়ামী লীগের হাতে বারবারই পরিণত হয়েছে এক ভয়ংকর অস্ত্রে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা অরক্ষিত অবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকাল- বিশেষত গত ১৬ বছর (২০০৯-২০২৪) সংখ্যালঘু নির্যাতনকে যেন এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। যখনই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তখনই সাজানো অভিযোগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দায় চাপিয়ে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। কোথাও সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে তার দায় বিরোধী দলের কাঁধে চাপানো হয়েছে; আবার কোথাও ধর্মীয় উসকানিকে অজুহাত বানিয়ে বিরোধী কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।

ফলে সংখ্যালঘুদের দুর্দশা আওয়ামী লীগের কাছে হয়ে উঠেছে দ্বিমুখী ফায়দার খেলা- একদিকে বিরোধী রাজনীতিকে দমন করা, অন্যদিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ঐতিহাসিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে থেকেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের দীর্ঘ একনায়কতান্ত্রিক শাসনামলে তারা নিছক নিপীড়নের শিকারই হয়নি, বরং সরাসরি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, তাদের আতঙ্কিত করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য করা আওয়ামী লীগের চিরাচরিত কৌশল।

এতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আবার ভয় ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করা যায়। বিগত আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানাবিধ নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক মহলকে পর্যন্ত নাড়া দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF) থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরা বারবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবু আওয়ামী লীগের শাসনামলে সন্ত্রাস, নির্যাতন, জমি দখল, নারী নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থেকেছে।

সংক্ষিপ্তাকারে নির্যাতনের কয়েকটি ভয়াবহ চিত্র-

২০০৯-২০১১ : দখল ও উচ্ছেদের সূচনাঃ আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ধারাবাহিকতা শুরু হয়। সাতক্ষীরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের শত শত বিঘা ঘের দখল করা হয়, দিনাজপুরে উচ্ছেদ হয় ১১৩টি হিন্দু পরিবার, রাজশাহী ও নাটোরে ঘোষাল পরিবারসহ অসংখ্য হিন্দুর জমি দখল হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানায়, জমি দখলই তখন সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

২০১২ : ভয়ের শাসনঃ ঢাকায় ছাত্রলীগের হাতে প্রকাশ্যে খুন হন বিশ্বজিৎ দাস। কক্সবাজারের রামু-উখিয়ায় ফেসবুকের অজুহাতে বৌদ্ধমন্দিরে আগুন দেওয়া হয়, শতাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়।

তদন্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। একই সময়ে সিলেট ও বাগেরহাটে হিন্দুবাড়িঘর ও দোকানপাট আক্রান্ত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে আখ্যা দেয়- ‘রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার ভয়ংকর নিদর্শন’।
২০১৩ : দেশজুড়ে অগ্নিসংযোগ ঃ নাটোর, বাঁশখালী, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, মৌলভীবাজার- সবখানেই মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পাবনার বনগ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার সঙ্গে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর নাম উঠে আসে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানায়, শুধু ২০১৩ সালেই ৫০০টিরও বেশি মন্দির ও ঘরবাড়ি আক্রান্ত হয়।

২০১৪-২০১৫ : নির্বাচনি সহিংসতার বলি সংখ্যালঘুরা: জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সংখ্যালঘুরা হয় মূল টার্গেট। পাবনা, যশোর, ঠাকুরগাঁও, নাটোরসহ বহু জেলায় হিন্দুবাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, নারী লাঞ্ছনার ঘটনা ভয়াবহ আকার নেয়। ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুরা নিয়মিত রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হয়। ’

২০১৬-১৭ : রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ার প্রমাণঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে শতাধিক হিন্দুবাড়িঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ হয়। তদন্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়। পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড়িদের জমি দখল ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। টিআইবি মন্তব্য করে, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে এসব নির্যাতনে জড়িত, অথচ প্রশাসন তাদের আড়াল করে। ’

২০১৮-২০২০ : আতঙ্কের রাজত্ব: ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জে সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা হয়। ২০১৯ সালে সিলেট ও মৌলভীবাজারে জমি দখল, পাহাড়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়। ২০২০ সালে নোয়াখালীতে হিন্দু নারী লাঞ্ছনার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মন্তব্য করে ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ’

২০২১ : ভয়াবহতম সহিংসতা: ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় নোয়াখালী, চাঁদপুর, রংপুর, ফেনীসহ বহু জেলায় মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে আগুন ও প্রাণহানি ঘটে। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তদন্তে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা এক ব্যক্তি ছিলেন সেই নাটকের নায়ক। সে সময় আওয়ামী লীগ সরকার চাইলেই মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি শান্ত করতে পারত কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা তা করেনি। বরং জনগণের চোখে ভয়ের ছায়া আঁকতে দিয়েছে, আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বুক ভেঙেছে ক্ষতচিহ্নে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তখন একে আখ্যা দেয় ‘অরগানাইজড পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এ ঘটনায় জানিয়েছিলেন ‘সাম্প্রদায়িক রং দিয়ে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা ও পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ’

২০২২-২৩ : অব্যাহত দমননীতিঃ কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বরিশাল ও গাইবান্ধায় মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল ও নারী লাঞ্ছনা হয়। ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইলে সংখ্যালঘু বাড়িঘরে হামলা হয়, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়, পার্বত্য এলাকায় প্রাণহানি ঘটে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রিপোর্টে বলা হয় ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত অন্তত চার হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।

২০২৪ : নির্বাচনের আগুনে পুড়ে যাওয়া জীবন: জাতীয় নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লা, যশোর, পাবনা, চট্টগ্রামসহ বহু জেলায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ঘটে। তৈরি হয় এক ধরনের গণহত্যার পরিস্থিতি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল জানায়, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার। ’

শেখ হাসিনার পতন ও পালিয়ে যাওয়াঃ শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে। তবু শেষ রক্ষা হয়নি শেখ হাসিনার। ৫ আগস্ট, ২০২৪ কাপুরুষের মতো তিনি ভারতে পালিয়ে গেলে অবসান হয় দীর্ঘ স্বৈরশাসনের। কিন্তু লজ্জাজনক পলায়নের পরও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে এতটুকু অনুশোচনার জন্ম হয়নি বরং তারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। ৫ আগস্ট পতনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ রয়েছে প্রতিশোধের আশায়। বর্তমানে তারা বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে বসে এবং প্রতিবেশী সরকারের সহায়তায় নতুন করে ষড়যন্ত্রের কারখানা চালু করেছে সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন)। অভিযোগ উঠেছে, এই কার্যালয় থেকেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নানা কর্মপরিকল্পনা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও ভাড়া করা লোক দিয়ে ঝটিকা মিছিল থেকে শুরু করে ছিনতাই-ডাকাতিসহ আরও নানাবিধ অপকর্ম সংঘটিত করছে। এসব অপকর্মে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশেষত জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন বানচালে এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দুমন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দু নারীদের লাঞ্ছনা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার টার্গেট নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তারেক রহমানের দূরদৃষ্টি ও সতর্কবার্তাঃ পৃথিবীতে অনেক দূরদর্শী মানুষ আছে, যারা অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহ অনুমান করতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেই বিরল ও কৌশলী নেতার নাম তারেক রহমান। ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা চুপচাপ বসে নেই; বরং ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতায় ফেরার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন। ’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অতীতের মতোই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হবে। আর সেই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হতে পারে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। জনগণের বিশ্বাস ও আবেগকে ঘিরে এমন নোংরা রাজনৈতিক খেলায় আওয়ামী লীগের ইতিহাস নতুন নয়। ঐতিহ্যগতভাবে সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের মাধ্যমে এ দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনুপম দৃষ্টান্ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, পলাতক স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা এই উৎসব ঘিরে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপকর্ম চালিয়েছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্রের অবসান হয়নি। তাই এবারের দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ’ দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন প্রমাণ করেছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন ছিল না কোনো তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা; এটি ছিল ক্ষমতাসীনদের পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয়। তাই বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সামাজিক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদ রক্ষায় এখনই সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অতীতে যেভাবে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে আওয়ামী লীগ, সেই ষড়যন্ত্র এবারও এই দুর্গাপূজায় ঘটতে পারে। তাই শুধু প্রশাসন নয়, সাধারণ জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের অপতৎপরতা ঘটতে দেওয়া যাবে না।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, আহ্বায়ক, আমরা বিএনপি পরিবার ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল

এক্সক্লুসিভ বাংলাদেশ রাজনীতি লেখকের কলাম

আরও পড়ুন

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

  • আর্কাইভ

    মির্জা আব্বাসকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন

    সরকারের সমালোচনা করতে বিরোধী দলকে সব বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে: জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন

    লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    রাজধানীর কূর্মিটোলা ক্যাম্প এলাকায় বিশুদ্ধ পানির কল উদ্বোধন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক

    এতিম জান্নাতীর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    পবিত্র কোরান তেলোয়াত এর মধ্যে দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে

    ‘আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক : প্রথম অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

    মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) সভাপতি করে সংসদের বিশেষ স্থায়ী কমিটি গঠন

    পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির-এর সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন সৌজন্য সাক্ষাৎ

    সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর বণ্টন- মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আযম খান, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

    মন্ত্রীত্ব পেলেন টাঙ্গাইলের আহমেদ আযম খান:এলাকায় আনন্দ মিছিল

    মরনব্যাধী বোনম্যারো ক্যান্সার আক্রান্ত সুমনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন তারেক রহমান

    ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    আগামীকাল যে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, সেটি হবে জনগণের সংসদ:চিফ হুইপ

    মিথ্যা-গায়েবি মামলা করার সংস্কৃতি আমরা কমিয়ে এনেছি:আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

    ভালো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা সংসদ থেকে শুরু করতে চাই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

    তরুণ প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

    শহীদ জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় রংপুর অঞ্চলের কৃষিবিদদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

    ভোটারদের হাতের আঙ্গুলের কালি এখনো শুকায়নি, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন শুরু হলো বিএনপি’র

    আমরা সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আয়রনম্যান খ্যাত অ্যাথলেট মারিয়াকে আর্থিক পুরস্কার ও স্পন্সরশিপ প্রদান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে জাকাত ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করা যায় সেই সম্ভাবনা খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন

    গুম, খুন ও জুলাই শহীদ-আহত পরিবারের সাথে ব্যতিক্রমী ইফতার করেছে শেকৃবি’র বৃহত্তর বগুড়া সমিতি

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করতে কনস্যুলার এক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ

    দেশে আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

    সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

    পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী:অর্থ মন্ত্রী আমির খুসরু


    • শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
      ওয়াক্তসময়
      সুবহে সাদিকভোর ৫:৫৫
      সূর্যোদয়ভোর ৭:১০
      যোহরদুপুর ১:০৮
      আছরবিকাল ৪:৩২
      মাগরিবসন্ধ্যা ৭:০৭
      এশা রাত ৮:২২
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুল হাসান বাবলু
    ই-মেইলঃ dk.kamrul@gmail.com
    copyright @ বাংলাদেশ দিনকাল / বিডি দিনকাল ( www.bddinkal.com )
    বিডি দিনকাল মাল্টি মিডিয়া (প্রা:) লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।