আজ শুক্রবার | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১:৪৭

শিরোনাম :

নারী আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি জোটের ৩৬ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একমাত্র প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নোয়াব সদস্যদের বৈঠক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গুজব রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত: চীনের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করল বাংলাদেশ ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইউরোপীয় কমিশনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের সঙ্গে বৈঠক  জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ:বগুড়া শহরে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লক্ষেই বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে : ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছেছেন

নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

ড. মাহরুফ চৌধুরী: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের আয়োজন নয়; পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি জাতির জন্য আত্মপরিচয় পুনর্নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ দিক-দর্শন নির্ধারণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। এমন সময়ে নির্বাচনী ইস্তেহার কোনো সাধারণ ঘোষণাপত্রের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে পারে না; বরং তা হতে হবে একটি রাজনৈতিক দলের রাষ্ট্রচিন্তার দলিল যেখানে প্রতিফলিত রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র পরিচালনায় তাদের নৈতিক অবস্থান, মানবিক সংবেদনশীলতা, বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজকে কোন পথে এগিয়ে নিতে চায় তার সুস্পষ্ট রূপরেখা। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বারবার দেখা গেছে, শিক্ষা বিষয়ে অধিকাংশ ইস্তেহারে ঘুরেফিরে এসেছে কিছু অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও পুনরাবৃত্তিমূলক বাক্যবন্ধ। সেখানে প্রস্তাবিত রূপকল্পে অনুপস্থিত থেকেছে গভীর দার্শনিক ভিত্তি, দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও কাঠামোগত সংস্কারের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক: গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নবযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পুনর্গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা কি এমন এক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষা কেবল প্রশাসনিক একটি খাত হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এমন এক সমাজ নির্মাণের সাহস দেখাব, যেখানে শিক্ষা হবে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি, নাগরিক চরিত্র গঠনের প্রধান মাধ্যম এবং বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার? এ প্রশ্নের উত্তর থাকা চাই প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা জোটের নির্বাচনী ইস্তেহারে।

দর্শনের ইতিহাস আমাদের স্পষ্ট শিক্ষা দেয় যে, একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের চরিত্র ও মানসিক কাঠামো তার শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক প্লেটো (৪২৭-৩৪৮ খ্রিষ্টপূর্ব) তার রিপাবলিক গ্রন্থে বলেছেন, রাষ্ট্র যেমন মানুষ তৈরি করে, মানুষ তেমনি রাষ্ট্রকে গড়ে তোলে—এই দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো শিক্ষা। গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (৩৮৪–৩২২ খ্রিস্টপূর্ব) আরও এগিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রকে একটি নৈতিক সম্প্রদায় হিসেবে কল্পনা করেছিলেন, যেখানে নাগরিকদের গুণাবলি গড়ে তোলাই ছিল শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক যুগে এই ভাবনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন মার্কিন শিক্ষাবিদ জন ডিউই (১৮৫৯-১৯৫২); তিনি শিক্ষা ও গণতন্ত্রকে অপরিহার্যভাবে একত্রিত করেছেন। তার মতে, শিক্ষা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবের কারণে শিক্ষা হয়ে ওঠে যান্ত্রিক, নীরস ও প্রাণহীন। এই তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করতে হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি শিক্ষাকে রাষ্ট্রগঠনের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করছে, নাকি কেবল উন্নয়ন সূচকের একটি পরিসংখ্যানমূলক খাত হিসেবে দেখছে? রাষ্ট্র ও সমাজের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের জন্য শিক্ষার প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করা না হলে, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও ভ্রান্ত হতে বাধ্য।
আমাদের সমাজে শিক্ষার বিস্তার যে ঘটেছে, তা সত্য, কিন্তু তার মান, গভীরতা এবং জীবনঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। শিক্ষার ভেতর ক্রমশ ঢুকে পড়েছে নম্বর অর্জনের প্রতিযোগিতা, ডিগ্রির মোহ এবং চাকরির নিশ্চয়তার একমুখী আকাঙ্ক্ষা যা শিক্ষাকে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের উপকরণে পরিণত করছে। অথচ প্রকৃত শিক্ষা কখনোই শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের নৈতিক বোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, যুক্তি ও সমালোচনামূলক চিন্তার ভিত্তি নির্মাণের প্রক্রিয়া। ব্রাজিলীয় শিক্ষাবিদ পাউলো ফ্রেইরি (১৯২১–১৯৯৭) তার ‘নিপীড়িতের শিক্ষা’ (প্যাডাগোজি অব দ্যা অপ্রেস্ড) বইয়ের মৌল প্রতিপাদ্য ‘মুক্তিদায়ী শিক্ষা’ তত্ত্বে এই দর্শনকে কেন্দ্রীয় স্থান দিয়েছেন যেখানে শিক্ষা মানুষকে কেবল তথ্যগ্রাহী ক্রীড়ানক হিসেবে নয়, সচেতন ও দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। যদি নির্বাচনী ইস্তেহারে এই মুক্তিদায়ী শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি অনুপস্থিত থাকে, তবে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎও হয়ে পড়ে একরৈখিক, সীমাবদ্ধ এবং নৈতিক সংকটপূর্ণ। আর তখন শিক্ষার শক্তি রাষ্ট্র ও সমাজকে আলোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, সম্ভাবনাকে সীমিত করে একটি স্বার্থপর, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে বন্দী হয়ে যায়।

স্বৈরাচারি রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণের কারণে শিক্ষার রাজনীতি একদিকে যেমন কলুষিত হয়ে পড়েছে, তেমনি দুর্নীতির করালগ্রাস শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এমন অবস্থায় জাতিকে সত্যিকারের মুক্তি দিতে হলে শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এবং বিশেষভাবে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে আরও স্পষ্ট ও সুসংহত হতে হবে। আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষার গুণগত মান কেবল পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে মাপা যায় না; এটি নির্ধারিত হয় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর প্রশ্ন করার স্বাধীনতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মানবিকতা, পেশাগত নৈতিকতা ও আত্মসম্মানবোধের চর্চা, গবেষণার স্বতন্ত্র পরিবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কল্যাণমুখী সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে। যদি নির্বাচনী ইস্তেহারে শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তির ব্যবহার বা সংখ্যা-পরিসংখ্যানের কথাই বলা হয়, কিন্তু শিক্ষকের পেশাগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার দর্শন ও নৈতিক কাঠামো নিয়ে নীরবতা বজায় থাকে, তবে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত বাহ্যিক, অস্থায়ী এবং গভীর মানসিক ও সামাজিক প্রভাবশূন্য হয়ে পড়ে। শিক্ষা তখন রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করার বদলে কেবল প্রশাসনিক খাতের ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের কর্মকান্ডেই আবদ্ধ থাকবে।
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আসন্ন এই নির্বাচনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলোর একটি হলো নতুন প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক প্রথমবারের মত ভোটাধিকারপ্রাপ্ত ভোটারদের অংশগ্রহণ। তারা এমন এক সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করছে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে যখন বিশ্বব্যবস্থা অনিশ্চিত, শ্রমবাজার ক্রমশ রূপান্তরশীল এবং পরিচয়ের সংকট গভীর। এই তরুণদের কাছে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়; এটি অর্থপূর্ণ জীবনের সন্ধান, রাষ্ট্রের পরিসরে নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতার নিশ্চয়তা। তারা জানতে চায়, রাষ্ট্র তাদেরকে কেমন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে, এবং তাদের নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর রূপকল্পটি কেমন এবং সেখানের রাষ্ট্রের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাটা কেমন হবে। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক দলগুলো কি তাদেরকে কেবল দক্ষ কর্মী হিসেবে দেখছে, নাকি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে? কেবল প্রতিযোগী হিসেবে, নাকি সহযোগী ও সহযাত্রী হিসেবে? যদি নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার স্পষ্ট রূপরেখা দিয়ে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেওয়া হয়, তবে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংযোগ দুর্বল হবে, রাজনীতির ওপর তাদের আস্থা হ্রাস পাবে, এবং রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে যাবে। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অবশ্যই তার প্রভাব পড়বে।

রাষ্ট্র ও শিক্ষার সম্পর্ক স্বভাবতই সুনিবিড় এবং একে অন্যের পরিপূরক হলেও সেটা একদিকে নৈতিক, অন্যদিকে ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক। যে রাষ্ট্র শিক্ষাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেয় না, তা কেবল নাগরিকদের ভবিষ্যতের দক্ষতা বা সক্ষমতা বিকাশে ব্যর্থ হয় না, বরং তাদের নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকেও উপেক্ষা করে। আর তার প্রতিফলন পড়ে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর নানাভাবে; বিশেষ করে সর্বত্র দূর্নীতির স্বাভাবিকীকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সহিংসতার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ইতিহাসে দেখা গেছে, যে দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদে ন্যায়ভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তারা প্রথমেই সমন্বয় সাধন করেছে রাষ্ট্রীয় দর্শনের সাথে শিক্ষার দর্শনের এবং শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বছরের পর বছর ধরে। সেখানে শিক্ষা কেবল দক্ষতা বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরির মাধ্যম নয়; এটি চরিত্র নির্মাণ, নৈতিক বোধ জাগরণ এবং যোগ্য নেতৃত্ব গঠনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে সেই সমাজগুলোতে শিক্ষা ও রাষ্ট্রের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিশ্চিত করেছিলো দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা, ন্যায়সংগত ব্যবস্থাপনা এবং সমৃদ্ধ জনগণের অংশগ্রহণ।

গণতন্ত্র কেবল রাস্তাঘাট, পথপ্রান্ত, মাঠময়দান ও গণমাধ্যমে হুঙ্কার কিংবা হাহাকার করার মাধ্যমে টিকে থাকে না; এটি জীবনের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি মানুষের আচার-আচরণে এবং সমাজের কাঠামোয় জীবন্ত হতে হবে। এজন্য শিক্ষার মাধ্যমে গণতন্ত্রায়ণের প্রাথমিক হাতেখড়ি ও সেটাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ীত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যক। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী ইস্তেহারে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শিক্ষার রূপরেখা সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার সময় এখন। এ ক্ষেত্রে কেবল স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নয়, বরং শিক্ষাখাতে কত পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে, কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের বিনিয়োগ করা হবে, এবং রাষ্ট্রের জন্য কী ধরনের মানুষ তৈরি করা হবে—এই সব বিষয়কে দেশের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখা প্রয়োজন। কেবল ‘আমাদের পরিকল্পনা আছে’ বললেই হবে না; বলতে হবে সেই পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট কাঠামো, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং পর্যায়ক্রমিক কার্যক্রম। পাশাপাশি থাকতে হবে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা পুনর্নির্ধারণের অঙ্গীকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসনের রূপরেখা, বৈষম্য নিরোধের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, গবেষণার স্বাধীনতা ও পরিবেশ, সমালোচনামূলক চিন্তার সুরক্ষা, এবং সর্বোপরি মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি যা শিক্ষাকে শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে বাস্তব অর্থেই বুঝতে শিখতে হবে যে, কোনো বিমূর্ত ধারণা বা কাঠামো নয়; রাষ্ট্র হলো মানুষের সমষ্টিগত নৈতিক সত্তা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শিক্ষার মাধ্যমে নির্মিত হয় এবং শিক্ষাই জাতীয় গৌরবের পরম্পরা ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। যদি নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষাকে কেবল প্রশাসনিক খাতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে রাজনীতি তার গভীরতম দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জাতির নতুন প্রজন্মের ভোটারদের প্রত্যাশা তাই একটাই: শিক্ষা নিয়ে সাধারণ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং সুস্পষ্ট দার্শনিক অবস্থান এবং কার্যকর ব্যবহারিক রূপকল্প উপস্থাপন। কারণ ন্যায়নীতি, সাম্য এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে হলে শিক্ষাকে কেবল উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; শিক্ষা হতে হবে রাষ্ট্রচিন্তার কেন্দ্রবিন্দু যেখানে নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার শিক্ষা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং রীতিনীতি চ্যালেঞ্জ করার নৈতিক শক্তি, আইন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার চর্চা সুদৃঢ়ভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শিক্ষার এই পূর্ণাঙ্গ রূপকল্পই হবে গণতান্ত্রিক, ন্যায়নিষ্ঠ এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম প্রাথমিক স্তম্ভ। তারই সূচনা করতে হবে রাজনৈতিক দল বা জোটের নির্বাচনী ইস্তেহারের ঘোষণায়।

* লিখেছেন: ড. মাহরুফ চৌধুরী, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য। Email: mahruf@ymail.com

প্রবাসের সংবাদ বাংলাদেশ লেখকের কলাম

আরও পড়ুন

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

  • আর্কাইভ

    দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় যেনো কোনো ত্রুটি না হয়-নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর

    সাগরিকায় তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানের বড় ব্যবধানে হারালো বাংলাদেশ

    লালমনিরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ইভেন্ট বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    নারী আসনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপি জোটের ৩৬ জন এবং স্বতন্ত্র জোটের একমাত্র প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা

    এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডিতে বাংলাদেশের জয়জয়কার: পুরুষ ও নারী দলের দাপুটে পারফরম্যান্স

    বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে খেলার সুযোগ দেয়া হোক:ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি

    থাইল্যান্ডকে হারানোয় বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকের অভিনন্দন

    চট্টগ্রামে সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫-২০ জন আহত

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নোয়াব সদস্যদের বৈঠক

    এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং গুজব রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

    পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    জুলাই যোদ্ধা শাহিনের চিকিৎসার খোজ-খবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।

    ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত: চীনের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করল বাংলাদেশ

    মতলবে বাপাউবোর প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পূর্বেই অনিয়মের অভিযোগ!

    ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইউরোপীয় কমিশনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের সঙ্গে বৈঠক 

    জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ:বগুড়া শহরে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    বিমানবন্দর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান তালুকদার

    লক্ষেই বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে : ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছেছেন

    যুদ্ধকালীন অবস্থায় তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

    আরো ১৭১ জন ক্রীড়াবিদ পেলেন পেশাগত স্বীকৃতির ‘ক্রীড়া কার্ড’

    বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “হামের সংক্রমণ প্রতিরোধ করণীয়” লিফলেট বিতরণ

    ‘গত দুই মাসে সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করেছে:প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ

    সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    মিরপুরে ১০৭ বছরের পুরোনো গাবতলী মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

    রাজধানীর খেলার মাঠ উন্নয়নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম

    ‘সরকারের যে ভালো দিক গুলো তুলে ধরবেন,আমাদের সহযোগিতা করবেন, সরকারকে সহযোগিতা করবেন:অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন


    • বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
      ওয়াক্তসময়
      সুবহে সাদিকভোর ৫:১২
      সূর্যোদয়ভোর ৬:৩১
      যোহরদুপুর ১২:৫৭
      আছরবিকাল ৪:২৪
      মাগরিবসন্ধ্যা ৭:২৩
      এশা রাত ৮:৪২
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুল হাসান বাবলু
    ই-মেইলঃ dk.kamrul@gmail.com
    copyright @ বাংলাদেশ দিনকাল / বিডি দিনকাল ( www.bddinkal.com )
    বিডি দিনকাল মাল্টি মিডিয়া (প্রা:) লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।