আজ শুক্রবার | ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২৫শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি | সন্ধ্যা ৭:৪১

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছে বিএনপি। ২৯৯ আসনের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৮৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিএনপি ২০০টি, জামায়াত ৬৪টি, এনসিপি ৫টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি ও স্বতন্ত্রসহ অন্যরা ১১টি আসন পেয়েছে।
সব আশঙ্কা, অনিশ্চয়তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ইতিহাসের নজীরবিহনী উৎসাহ-উদ্দীপনায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদকেও যেন হার মানিয়েছে এবারের নির্বাচনী উৎসব। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশের এ নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
পোস্টাল ব্যালটে ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট পড়লেও বৈধ হয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ (৩৫৫৫৬৩১ ভোট) আর ‘না’ পড়েছে ২২ দশমিক ২৩ শতাংশ (১৯৮৬৬০১ ভোট)।
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত না ঘটিয়ে বিশ্বকে ‘আমরাও পারি’ দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ দেড় যুগ ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মেটাতে রক্ত না ঝরিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন বার্তা দিয়ে এক অনন্য নজির তৈরি করেছেন দেশের সাধারণ ভোটার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো। বাংলাদেশের এমন অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বিশ্ব কখনো দেখেনি। স্মরণকালে গণতান্ত্রিক বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত অধিকাংশ দেশেও এমন নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদাহরণ নেই। নির্বাচনের আগে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে কিছু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার প্রেরণা যোগাবে।
সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা গণভোটের ভোটগ্রহণ হয়েছে সারা দেশে। এর আগের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই সাধারণ ঘটনা হলেও এবার এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। কোথাও ভোটগ্রহণ স্থগিতের খবরও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ এক অনন্য নজীর। নির্বাচনের এই দিনে সারা দেশে কোথাও কোথাও ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও যেমন বড় ধরনের রক্তাক্ত সহিংসতা হয়নি, তেমনি নেই প্রাণহানি, হানাহানির খবর। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনের তদারকিতে কোটি কোটি তরুণ-যুবক আর দেশের নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বিঘেœ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের মাঠ থেকে বিশ্ববাসী বাংলাদেশ থেকে একটি বার্তা পেয়ে গেল, ৪ কোটি তরুণ ভোটারই শুধু নন, সব বয়সি ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে তাদের রায় দিতে শক্তির প্রয়োজন হয় না; যা গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাংলাদেশকে নতুন পথের দিশা দিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের তফসিল পরে ঘোষণা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে রয়েছে।
নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ভোটের ফলাফল সঠিকভাবে ঘোষণা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, নির্বাচিত সরকারকে তা সম্মান করতে হবে। জনগণের সমর্থনে বিএনপির বিজয় অনিবার্য। বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পাবে। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় যেন কোনো অসংগতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় থাকতে। অন্যদিকে নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপত্র ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এহসানুল মাহমুদ জুবায়ের। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, বিপুল ভোটে সর্বোচ্চসংখ্যক আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করব, ইন শা-আল্লাহ। সরকার ও নির্বাচন কমিশন ভালো নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করেছেন, এ চেষ্টার ফলেই বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের আয়োজন করে। একইসঙ্গে তারা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশকিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মত জানান। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন হবে।
বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেন ছোট-বড় ৫০টি রাজনৈতিক দল। ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী ছিল ২ হাজার ২৮ জন। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন অংশ গ্রহণ করে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৬৫১টি। মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ লাখ ২৩২ জন।
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ |
| যোহর | দুপুর ১:১৩ অপরাহ্ণ |
| আছর | বিকাল ৪:২৭ অপরাহ্ণ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:৫৩ অপরাহ্ণ |
| এশা | রাত ৮:০৯ অপরাহ্ণ |