আজ মঙ্গলবার | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | দুপুর ১:৩৫

বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি. এর বর্তমান শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ব্যাংক খেকো নাফিস সরাফত এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার এর জনক মোঃ শামস উল ইসলাম এর খাস লোক হিসাবে পরিচিত এই মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও “ফ্যাসিবাদের দোসর” হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের প্রভাব বহাল রয়েছে এবং তারা রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। বর্তমান এমডি আনোয়ারুল ইসলাম এবং ডিএমডি রূবানা পারভীন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গোপনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন, পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন। এছাড়াও দুজনই খুলনা বিভাগের বাসিন্দা হওয়ায় নিজেদের এলাকার অফিসারদের সুবিধা দিতে সাধারণ কর্মকর্তা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দূরবর্তী এলাকায় বদলি করে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যাংকের ভেতরে বর্তমানে বদলি বাণিজ্য ও পদোন্নতি বাণিজ্য “রমরমা” অবস্থায় চলছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, অফিসার অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ, অফিসার ঐক্য ফোরাম সহ আওয়ামী ঘরানার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও সুপার নিউমারারি পদোন্নতি দেয়ায় সাধারণ অফিসারদের নজিরবিহীন বঞ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার ফলশ্রুতিতে গত বছর ব্যাংকে কোন পদোন্নতি হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যকে যোগ্যতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা সার্কেল-১ এবং ঢাকা সার্কেল-২ এর মহব্যবস্থাপক সামসুল আলম ও আতিকুর রহমান সিদ্দিকী এর তত্ত্ববধানে আওয়ামী পন্থি সংগঠন অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বায়েজিদ হোসেন লিপু একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে এমডির পৃষ্ঠপোষকতায়। এবার অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে শুধু ১৮ জন টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের, যাদের সকলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ নতুবা স্বাধীনতা ব্যাংকার্স এর নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ময়মনসিংহ ইউনিটের সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম এর নাম সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি তালিকার ২৫ নম্বরে রয়েছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য মোহাম্মদ এবাদত হোসেন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স এর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সভাপতি, ইকবাল হোসেন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স জামালপুর অঞ্চলের সহ-সভাপতি, এস.এম শরীফ মাহমুদ, হারান চক্রবর্তী, মোঃ ফজলে রাব্বি শাহীন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স টাঙ্গাইল অঞ্চলের নির্বাহী সদস্য পদে ছিলো। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১৮ জন পদোন্নিতিতে প্রায় ৩ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগে সাবেক এমডি শামস উল ইসলামের নামও উঠে এসেছে। তাকে “বঙ্গবন্ধু কর্নারের জনক” হিসেবে সারাদেশ চিনলেও, তার দায়িত্বকালে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হলেও বর্তমান এমডি তার এসব অবৈধ কার্যক্রম ধামাচাপা দিতে বদ্ধপরিকর। কারন হিসাবে জানা যায় বর্তমান এমডি শামস উল ইসলাম এর সময় সর্বোচ্চ সুবিধা পেয়ে ডিএমডি হয়েছিল এবং খেলাপি ঋণের ফাইলে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম এর স্বাক্ষর আছে। এছাড়াও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বর্তমান এমডির মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগ দিতে অগ্রণীর একজন কর্মকর্তা জানায় ” এমডির দপ্তরের ২ জন কর্মকর্তা কম যোগ্যতা সম্পন্ন হবার পরও সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদোন্নতি বাগিয়ে নেয় সাথে বোনাস হিসাবে লোভনীয় পদায়ন এবং খুলনা বিভাগের চিহ্নিত আওয়ামী এর প্রায় ১৫ জনকে এই এমডি সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদোন্নতি দিয়েছে” সংশ্লিষ্টদের দাবি, পূর্ববর্তী দুর্নীতির তদন্তকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের রক্ষায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের মতে, বর্তমান এমডি আনোয়ারুল ইসলাম এসব অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না। বরং তার আমলেই ব্যাংকটিতে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, আর্থিক অনিয়ম ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে “অযোগ্য, দুর্বল ও দুর্নীতিপরায়ণ” বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অতীতে এনএসআই রিপোর্টে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত আনোয়ারুল ইসলামকে এমডি করার পর থেকেই ব্যাংকে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে আওয়ামী ঘরানার এবং খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বসিয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাংকের ভেতরে এক ধরনের ভীতিকর ও বিভক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আরও অভিযোগ পাওয়া যায় এইচআরপিডিওডির মহাব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন তার অঞ্চল উত্তরবঙ্গের আওয়ামী ঘরনার তিনজনকে পদোন্নিতি দিয়েছে, তারা হলেন আবু তাহের রুহুল আমিন মোঃ তহমিদুর রহমান মন্ডল (লুলু) , সভাপতি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, রংপুর অঞ্চল, আবু বক্কার সিদ্দিক, স্বাধীনতা ব্যাংকার্সার নেতা এবং বগুড়া অঞ্চলের আওয়ামী ঘরনার মোঃ ছামছুল আলম।
বর্তমান এমডি ২০২৩ সালের আওয়ামীলীগ আমলে অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি থাকা অবস্থায় মোট ১০ জনকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেয়া গুরুতর অভিযোগ আছে। সাধারন কর্মকর্তাদের দাবী আওয়ামীলীগ আমলের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে অবসরে যাওয়া আনোয়ারুল ইসলামকে ৫ আগস্ট পরবর্তীতে জামায়াতের তদবিরে এমডি হিসাবে অগ্রণীতে ফিরে আসে। বর্তমানে নতুন সরকার গঠনের পরও জামাতপন্থি এমডি বহাল থাকায় সকলে হতাশ।
এছাড়া শুধুমাত্র আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিতে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব বিধি লঙ্ঘন করে ডিএমডি-১ এর পরিবর্তে ডিএমডি-৩ রূবানা পারভীনকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। খোজ নিয়ে জানা যায় এই রূবানা পারভীন কোন এক অজানা শক্তিতে বলিয়ান, ৬ আগস্ট সকাল পর্যন্ত যে কর্মকর্তার ফেসবুক ওয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকে তার ডিএমডি হওয়া এবং হেড অব এইচআর হওয়া রীতিমতো বিষ্ময় সৃষ্টি করেছে।ধারণা করা হয় খুলনা অঞ্চল এবং আওয়ামিলীগ কে পুর্নবাসন করতে এমডি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রূবানা পারভীন কে হেড অব এইচআর এর দায়িত্ব দিয়েছেন। সাধারণ অফিসাররা এই এমডির হাত থেকে পরিত্রাণ চায়।
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৪৫ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১১ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৬ |
| আছর | বিকাল ৪:১৬ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪২ |
| এশা | রাত ৯:০৮ |