আজ বৃহস্পতিবার | ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ৪:১০

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল সূচনার দিন। এদিন পৃথিবীর মানচিত্রে যুক্ত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাম। ১৯৭১ সালের এইদিনে স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে মুক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল মুক্তিকামী জনতা। স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা হয়েছিল এদিন। যাদের ত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ড সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ। সমৃদ্ধির শপথে মুষ্টিবদ্ধ হওয়ার দিন। আজ সারা দেশে নানা আয়োজনে পালিত হবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পুরো জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর সেনানীদের।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবার ভিন্ন এক পরিবেশে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার। সরকারের পথচলার শুরুতে উদ্যাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমৃদ্ধ করা, উন্নয়ন ও জনগণের কাঙ্ক্ষিত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ও শপথ উচ্চারিত হবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্?যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ। এতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
দিবস উপলক্ষে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও রঙিন পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এবার সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। দেশের সকল হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রসমূহে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলার মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে যে বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল- দীর্ঘ ৯ মাসে মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে দামাল বাঙালি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ২৫শে মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যার জেরে ২৬শে মার্চ থেকে শুরু হয় মুক্তিকামী জাতির মুক্তির লড়াই। ২৬শে মার্চ রাতে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান (শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর-উত্তম) দৃপ্ত কণ্ঠে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণার পর দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তির সংগ্রামে। দীর্ঘ ৯ মাসের অকুতোভয় লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়।
ইনসাফভিত্তিক স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কর্মমুখর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত-পথ নির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘স্বাধীনতা জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আজকের এই দিনে সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও সর্বস্তরের জনগণকে-যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন প্রেসিডেন্ট। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিশিষ্টজনরা অংশ নেবেন।
উন্নত দেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর: ওদিকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি। আমি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।
বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৪২ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৫৮ |
| যোহর | দুপুর ১:০৪ |
| আছর | বিকাল ৪:৩১ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:১১ |
| এশা | রাত ৮:২৭ |