
মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফিট মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (র্যাব)’র পরিচয় দিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীদের তুলে নিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রাইভেটকার, পাঁচটি ডামি পিস্তল, চারটি ডামি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের কাভার, ইলেকট্রিক শক মেশিন, ছুরি ও স্টিলের বাটনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া একটি মোটরসাইকেল ও একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়।
আজ রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিএমপি’র খিলক্ষেত থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। এসময় পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে:
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা মো. শাওন হোসেন (২০) তার বন্ধু রাহাত বিন রিগান, জামিল ও মামুনকে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে ৩০০ ফিট মহাসড়কে ঘুরতে যান। একপর্যায়ে তারা খিলক্ষেত থানার স্বদেশ প্রোপার্টিজের সামনে ২ নম্বর সেতুর নিচে মোটরসাইকেল রেখে ছবি তুলছিলেন। এ সময় একটি রুপালি রঙের প্রাইভেটকার তাদের সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি নেমে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (র্যাব) সদস্য হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দেন। তারা শাওন ও তার বন্ধুদের নাম-ঠিকানা এবং মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখতে চান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা কাগজপত্র ও মোটরসাইকেলের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পুলিশের ভাষ্য, এরপর ওই ব্যক্তিরা জোর করে মোটরসাইকেলের চাবি নেওয়ার চেষ্টা করেন। শাওন ও রাহাত বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো ও মারধর করা হয়। পরে তাদের জোর করে প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়া হয়। মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের একটি নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে পিস্তল দেখিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়।
প্রায় এক ঘণ্টা খিলক্ষেত থানার ৩০০ ফিট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর তাদের পিংক সিটির গেটের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় শাওন কৌশলে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারের চাবি নিয়ে দৌড় দেন। তখন রাহাতকে একজন পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। শাওন দৌড়ে স্বদেশ চত্বরে থাকা পুলিশের গাড়ির কাছে গিয়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ঘটনাটি জানান। এরপর খিলক্ষেত থানা-পুলিশ অভিযান শুরু করে।
যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয় :
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে পিংক সিটি গেটের সামনে গিয়ে অভিযুক্তদের ফেলে যাওয়া রুপালি রঙের টয়োটা প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। গাড়িটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-২৯-৬৯৪২।
গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি হেলমেট, একটি স্টিলের বাটন, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, দুটি সানগ্লাস, দুই জোড়া গ্লাভস ও একটি কালো কটি উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে পাওয়া কাগজপত্র যাচাই ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকা থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ডামি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর সেকশন-১২, ব্লক-ডি, রোড-২ এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।
সেখান থেকে চারটি ডামি পিস্তল, চারটি ডামি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের কাভার, একটি রান চাকু, একটি স্টিলের বাটন, দুটি চাকু, একটি ওয়ালেট, একটি মানিব্যাগ ও একটি ছোট চামড়ার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ভবনের নিচ থেকে ছিনতাই হওয়া কালো রঙের এপাচি ফোরভি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এর নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল-৩০-৮৮২৯। একই স্থান থেকে একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্সও উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর ডি-ব্লক এলাকা থেকে চক্রটির আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানাসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় শাওন হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেত থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর ৮ এবং জিআর নম্বর ১৪৪। দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:২৬ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৪২ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৬ |
| আছর | বিকাল ৪:২৪ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:১১ |
| এশা | রাত ৮:২৭ |