আজ | | | |

শিরোনাম :

মাদকমুক্ত ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় শিশুর প্রথম শিক্ষক মা এবং সুরক্ষার হাতিয়ার খেলাধুলা: সাচিং প্রু বাসযোগ্য নগরী গড়াই এখন মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের পরিবহন ও বীমা সুবিধা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ভোলায় ইলিশা বায়োগ্যাস পল্লীর শুভ উদ্বোধন যুবদল উত্তরের পর এবার ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: সালাহউদ্দিন আহমদ সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে:একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ২ হাজার ৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি

স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: 12 May, 2026 6:17 pm

ঢাকা : জাতি গঠন এবং দেশকে এগিয়ে নিতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে এই সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখারও আহ্বান জানান, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী কাবেরী আজাদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আর্টিস্টদের শিল্প বাজার প্রসারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ বা কোনো ধরনের পরিকল্পনা আছে কি না?

উত্তরে কাবেরী আজাদকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি একটু ভিন্নভাবে দেব। এই যে আপনারা অনেক কিছু চাইছেন, মনে করছেন হওয়া উচিত কিন্তু সব কিছুই ধীরে ধীরে তৈরি করতে হয়। এজন্য দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ লাগবে। আমরা যদি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না রাখতে পারি, তাহলে আমরা কোনো কিছুই তৈরি করতে পারবো না। তৈরি হবে, ভেঙে যাবে। সেজন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যেক স্টুডেন্টের একটি বড় ভূমিকা আছে। সেটা সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা অন্য যেকোনো মাধ্যম। কিন্তু ওপিনিয়ন আপনাদেরই তৈরি করতে হবে। আমরা রাজনীতি করব এবং করেছি। রাজপথে অনেক কিছু এখন স্থিতিশীলতা আসতে হবে। রাজনীতিকে সংসদে নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজপথে এসে হইচই করলেই কোনো কিছু গড়ে তোলা যায় না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কিছু গড়ে তোলার জন্য কিন্তু স্থিতিশীলতা লাগে, বসে আলোচনা করতে হয়, চিন্তা করে কাজে হাত দিতে হয়। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই এই সহযোগিতা আসতে হবে। কারণ, আপনারাই আগামির ভবিষৎ। আপনাদের শক্ত হতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কাবেরী আপনার প্রশ্নের উত্তরটা আমি ডাইরেক্টলি দিলাম না। বাট, আমি যেভাবে চিন্তা করি- সেভাবে বললাম।’

সরকারের একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাচ্চাদেরকে আমরা সংসদে নিয়ে যাচ্ছি। তারা দেখবে। আমার একটি অভিজ্ঞতা ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দেখার। ওখানে গাইডেড টুল সিস্টেম আছে। টিকিট কেটে গেলে পুরো পার্লামেন্ট দেখা যায়। যেখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য বলবে- সবকিছু একসঙ্গে দেখার সুযোগ মিলবে।

ব্যাপারটা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল এবং যেদিন আমি দেখেছিলাম, সেদিনই চিন্তা করেছিলাম যে, আমার যদি ইনশাআল্লাহ কোনোদিন সুযোগ হয়, তাহলে আমি এই ব্যবস্থাটা আমার দেশের বাচ্চাদের জন্য করার চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আই কুড স্টার্ট ইট, আই কুড ডু ইট। এখন শুধু ঢাকার স্কুলের বাচ্চারা আসছে। ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে অন্যান্য জেলার বাচ্চাদেরকে আমরা ধীরে ধীরে আনবো। তারা পার্লামেন্ট দেখবে, সেশন দেখবে, পার্লামেন্ট বিল্ডিংয়ের একটা হিস্ট্রি আছে, এটার লিগ্যাসি আছে, কীভাবে কী হলো- এই সবগুলো তারা জানবে।’

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৩৫ বছর পর নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘স্টুডেন্টস, আপনারা কেমন আছেন? ভালো আছেন সবাই? আপনাদেরকে দেখে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে যে, আজকে থেকে কত বছর হলো? প্রায় ৩৫ বছর আগে ফিরে গিয়েছি। আমি আসার সময় আমাকে এই যে ইউজিসির প্রোগ্রামটা শেষ করার পরে- আমাকে ওখানে জিজ্ঞেস করলেন যে, আমি গাড়িতে যাবো নাকি হেঁটে যাবো। এত বছর পরে সেই ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এসে আমার খুব ইচ্ছা ছিল হেঁটে একটু দেখতে দেখতে আসবো। বাট সেই সৌভাগ্য হয়নি আমার। ইনশাআল্লাহ আরেকবার আসতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (শিক্ষার্থী) সাথে আমার বয়স বলেন সবকিছু মিলে অনেক গ্যাপ। আমি জানতে চাই, আপনারা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান। বাংলাদেশের জন্য কী কী আমরা করতে পারি? আমি জানতে চাই বাংলাদেশের জন্য আপনারা কী কী করতে পারেন? আমরা এগুলো নিয়ে আলাপ করব আজকে। চলেন আলাপ শুরু করি।’

প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম প্রশ্ন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশেরুজ্জামান হাসান। তার প্রশ্ন ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং প্রত্যেকটি হলে আমাদের একটি সিট নেওয়ার জন্য প্রায় প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু শত পরিশ্রম এবং যুদ্ধের পরেও আমরা আমাদের যে স্বপ্নগুলো আছে, সে স্বপ্নগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করতে পারছি না। আমাদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং আমাদের প্রশ্নফাঁস, ডিভাইস পার্টি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি- এই বিষয়গুলোর কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমরা জানতে ইচ্ছুক, আমাদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং আমাদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে যে অনিয়মগুলো আছে, সেগুলো নিরসনে আপনার সরকার এবং আপনার পরিকল্পনা কী?

মোবাশেরুজ্জামান হাসানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মোবাশেরুজ্জামানকে ধন্যবাদ। পরবর্তী যারা বলবেন, দয়া করে মাননীয় বলার দরকার নেই। শুধু প্রাইম মিনিস্টার বললেই হবে। আপনি বেশ অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন। প্রথমেই আপনি হলে থাকার বিষয়টা বলেছেন, এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কমবেশি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্যাগুলো আছে। আমি গতকাল পুলিশের এসপি-ডিআইজিদের তাদের এক মতবিনিময় সভায় বলেছিলাম যে, অতীতে দেশের মানুষের সম্পদ নিয়ে কীভাবে তছরুপ করা হয়েছে? পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আমরা জেনেছি আমি ঘটনাগুলো বলেছি গত এক যুগ, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে অনেক বড় বড় প্রজেক্ট হয়েছে। ভালো প্রজেক্ট হতেই পারে, একটি দেশের জন্য প্রয়োজন আছে। কিন্তু সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেটা ঘটেছে, তা হলো- রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের নজিরবিহীন দুর্নীতি।’

এরপর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতি, বালিশ কাণ্ড, বিভিন্নভাবে অর্থ পাচার প্রভৃতি ঘটনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা আপনার এই সিটের সমস্যার সমাধান করতে পারতাম, সেটা লাইব্রেরিতে হোক, বা যেকোনো সমস্যা। আপনাদের হলে যারা থাকেন, তাদের খাবারের সমস্যা অনেকাংশেই আমরা সমাধান করতে পারতাম। কিন্তু প্রতিবছর যদি ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়, তাহলে ১০ বছরে কত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে হিসাব করলেই বুঝতে পারবেন। ফলে ইচ্ছে থাকলেও সব সমস্যা সমাধান করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে দুর্নীতির জিরো টলারেন্সের কথা বলেন। আমার কাছে কথাটা অবাস্তব মনে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আমরা যতই বলি জিরো টলারেন্স, এটা একটা অবাস্তব ব্যাপার। ডু ইউ বিলিভ দিস? আপনারা কেউ বিশ্বাস করেন যে জিরো টলারেন্স সম্ভব?’

এই সময়ে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি বিশ্বাস না করেন। আমি কেন বিশ্বাস করব এটা? কিন্তু আমরা যেটা চেষ্টা করছি এই বিষয়টাকে যতটুকু লাগাম টেনে ধরা যায়। এত বছরের বিষয়টা আমরা দুই মাস, ছয় মাস, এক বছর, দুই বছরে পারব না। এটা একটা অভ্যাসের ব্যাপার।’

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে আসার সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘আজকে সকাল বেলায় আসার সময় আমি ওই যে মহাখালীতে এসে লেফটে একটা ফ্লাইওভারে উঠতে হয়, যেটা হলো- মহাখালী এক্সপ্রেসওয়ে। আমি যখন টোল দিয়ে সামনে যাচ্ছি, তখন হাতের বাম পাশে যে অ্যাপার্টমেন্টগুলো আছে, সেখানে দেখলাম একটা অ্যাপার্টমেন্টের ট্যাংকি থেকে পানি পড়ছে। মানে পানির মেশিনটা বন্ধ করেনি, কারো খেয়ালও নেই। চারতলা না পাঁচতলা বিল্ডিং থেকে পানি পড়ছে। অ্যাকচুয়ালি আমার দৃষ্টিতে এটা এক ধরনের ইগনোরেন্স অথবা এক ধরনের দুর্নীতি বলা যায়।’

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা দেখছি যে, ট্রাফিক আইনের যে বিষয়টি এখন এআই দিয়ে শনাক্ত করা হচ্ছে। এটাতে অনেক মানুষ কিন্তু রিঅ্যাক্ট করছে। হ্যাঁ আমি সামান্য ভুল করেছি, তাতেই ফাইন চলে আসলো। এতে মানুষ পরিস্থিতি চিন্তা না করেই বিরক্ত হচ্ছে।’

‘অন্যদিকে কক্সবাজারে বনাঞ্চল গাছ কাটা নিষেধ। ওখানকার যারা স্থানীয় বাসিন্দা, তারা আপত্তি জানায়। কারণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই কাজটি (গাছ কাটার কাজ) করে আসছে। ফলে এটি যে অনৈতিক কাজ তা তাদের ধারণায় নেই। তাই মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সকালে আমি বলেছিলাম- আমার বক্তব্যে দুঃখজনক হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলতে আমরা যা বুঝি, ইন্টারন্যাশনালি র‌্যাংকিংয়ের মধ্যে পড়ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে যে, এখানে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগ হওয়া উচিত ছিল, অতীতে সেভাবে হয়নি। দূর থেকে এটা আমরা শুনেছি, পত্র-পত্রিকায় পড়েছি যে, এখানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পলিটিক্যাল বায়াসনেসটা বেশি প্রায়োরেটি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজাল্ট দেখে, মেরিট দেখে নিয়োগ দেই তাহলে এই অবস্থাটার পরিবর্তন করা সম্ভব। এর বাইরেও শিক্ষকদের বেলায় ডিন বা উচ্চ পদের জন্য পাবলিকেশন দরকার হয় সেগুলোর অনুপস্থিতি দেখছি। আমরা যদি এই বিষয়গুলো অনুসরণ করি, তবে মেধার বিকাশ ঘটবে। আমি ভিসি সাহেবকে অনুরোধ করব যে, আগামীতে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থী আল আমিনের প্রশ্ন ছিল, বাংলাকে অনেকে গুরুত্ব দিতে চায় না। যেকোনো দেশের মাতৃভাষা এবং রাষ্ট্রভাষা যেটা ফাস্ট ল্যাংগুয়েজ বা প্রধান ভাষা। এটা বাদ দিয়ে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ বা অন্য কোনো ভাষাতে পড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজের ভাষা যেটা মাতৃভাষা এটাও ঠিকমতো বলতে বা পড়তে পারে না। এক্ষেত্রে ইংরেজিতে একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যাদের নিজের ভাষার প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই। এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন ইংলিশ মিডিয়ামের যে কারিকুলাম এখানে, বাংলা আরেকটু কার্যকরী বা বাধ্যতামূলক করা হবে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলআমিন মানে বিশ্বাসী। প্রশ্নের উত্তরটা আমি দিচ্ছি। আমার ব্যক্তিজীবনের বিষয়টা আছে। আমি, আমার পরিবার যখন এই দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হই, তখন আমার সন্তানের বয়স ছিল ১২ বছর। তার মানে এমন একটা সময় ওকে চলে যেতে হয়েছে যখন মানুষ বেড়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে ওর পড়া-লেখা, মন-মানসিকতা ওই সময় মানুষের চেঞ্জ হয়, গড়ে উঠে।’

তিনি আরো বলেন, আপনি যদি ওকে (জাইমা রহমান) আজকে জিজ্ঞেস করেন, দেশের ৬৪টা জেলার নামসহ অধিকাংশ থানার নাম বা উপজেলার নাম আমার মেয়ে বলে দিতে পারবে। আমার মেয়ের সাথে যদি কথা বলেন, আপনার কখনোই মনে হবে না যে, ও ১৭ বছর ইংল্যান্ডে ছিল। ওর পড়ালেখা, বন্ধু-বান্ধব সবকিছু বিদেশি মনে হবে না। কেন জানেন? এটা হচ্ছে মানসিকতার ব্যাপার, এটা হচ্ছে পরিবারের বিষয়। আমি কাউকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা মানসিকতা আছে- যেই বাচ্চারা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে তাদের পরিবার বা আশপাশে সবাই তার সাথে সারাক্ষণ ইংরেজিতে কথা বলতে চায়। ফলে তার মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবহার কমে যায়। তাই এই অভ্যাসগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আপনার উত্তর পেয়েছেন আলআমিন? বিশ্বাসীকে এই বিষয়টা বিশ্বাস করতে হবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

কর্মশালা শেষে বেলা পৌনে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন থেকে তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এসে পৌঁছান। মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপবিষ্ট ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢাবি সিন্ডিকেট অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।, ১২ মে, ২০২৬ (বাসস)

এক্সক্লুসিভ জাতীয় প্রধান খবর শিক্ষাঙ্গন/ক্যাম্পাস

আরও পড়ুন

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

  • আর্কাইভ

    চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি

    নিকুঞ্জে জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে গভীর রাতে দোকান পরিচালনা, গ্রেফতার ১

    মাদকমুক্ত ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় শিশুর প্রথম শিক্ষক মা এবং সুরক্ষার হাতিয়ার খেলাধুলা: সাচিং প্রু

    বাসযোগ্য নগরী গড়াই এখন মূল লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

    দৃষ্টিপাত: প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও বিএনপিকে অজনপ্রিয় করে তোলার এক অতি সূক্ষ্ম কাজ চলছে এবং দ্রুততার সঙ্গে—ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতি ধরল কর্তৃপক্ষ: ভুয়া প্রার্থীকে পুলিশে সোপর্দ, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

    ক্রীড়া কার্ডধারী খেলোয়াড়দের পরিবহন ও বীমা সুবিধা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    সারাদেশে ইয়াবার নামে বিক্রি হচ্ছে “মায়াবড়ি” ইয়াবা খাবি খা, মারা যাবি যা,,,,

    নগর বদলের প্রতিশ্রুতির আগে বদলাক প্রচারের সংস্কৃতি

    ঢাকা বিমানবন্দরে তিনটি পৃথক অভিযানে ৭৮১.৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার,মোবাইল,ল্যাপটপ ও সিগারেটসহ ৭ জন আটক করেছে এয়ারপোর্ট এপিবিএন

    খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুন্দর দেশ গঠন করা সম্ভব: দিনাজপুরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    তরুণদের জন্য নেয়া সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব থাকবে না: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

    দলের ভরাডুবির মাঝে বাংলাদেশী দুই ফুটবলারের নাইট ক্লাবের ছবি ভাইরাল! নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন

    প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

    গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    খেলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বার্তা দিলেন ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

    হাটহাজারীতে ১২০০ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের গভীর কৃতজ্ঞতা

    জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

    ‘প্রত্যেক ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য’ –যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ভোলায় ইলিশা বায়োগ্যাস পল্লীর শুভ উদ্বোধন

    স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’র গোলটেবিলে বক্তারা: চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলে বছরে আর্থিক ক্ষতি হবে ৯২ মিলিয়ন ডলার

    এবার সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হাফিজুর রহমান শুভ্র সহ মিরপুরের তিন নেতাকে বহিস্কার

    যুবদল উত্তরের পর এবার ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

    ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

    সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক সহিংসতার মূল উৎস মাদক একে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে: হাটহাজারীতে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

    বিএনপিকে জনগণের কাছে বিভ্রান্ত ও হেয় করতে চক্রান্ত করে কৃত্রিম সারের সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    ৪৮ (আটচল্লিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট‘সহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গেপ্রফতার করেছে এসআরবি কুষ্টিয়া

    দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি : ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

    বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


    • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
      ওয়াক্তসময়
      সুবহে সাদিকভোর ৫:৩৭
      সূর্যোদয়ভোর ৬:৫২
      যোহরদুপুর ১২:৪৭
      আছরবিকাল ৪:০৯
      মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪১
      এশা রাত ৭:৫৬
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুল হাসান বাবলু
    ই-মেইলঃ dk.kamrul@gmail.com
    copyright @ বাংলাদেশ দিনকাল / বিডি দিনকাল ( www.bddinkal.com )
    বিডি দিনকাল মাল্টি মিডিয়া (প্রা:) লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।