আজ মঙ্গলবার | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | বিকাল ৪:২০

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর তার মরদেহ আট টুকরো করে পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে র্যাব।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে ঘাতকেরা। এর মধ্যে সাত টুকরো ভাড়াবাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে রাখা হয় এবং মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেজো মেয়েকে নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দরামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩। তবে ঘটনার মূল হোতা ও কথিত পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) এখনও পলাতক রয়েছেন।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, সবচেয়ে গা শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরদিন অভিযুক্ত হেলেনা বেগম, তার মেয়ে এবং পলাতক তাসলিমা বাইরে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে বিরিয়ানি খাওয়ার পর রাতে বাসায় ফিরে প্রতিবেশীদের ডেকে ছাদে পার্টিও করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী সুমনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্রবাসে থাকাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন মোকাররম। গত ১৩ মে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় ওঠেন তিনি। এক রুমের ওই বাসায় তাসলিমা, মোকাররম, হেলেনা এবং হেলেনার দুই মেয়ে একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন।
র্যাব জানায়, ১৩ মে রাতে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য শুরু হয়। একপর্যায়ে হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে মোকাররম অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করলে হেলেনা তা দেখে ফেলেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই রাতেই তাসলিমা ও মোকাররমের বিয়ে নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
মোকাররম বিয়ে করতে চাইলে তাসলিমা রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোকাররম তার দেওয়া প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমার ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
এই বিরোধের জের ধরেই তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। মেয়ের ওপর ক্ষোভ থেকেও হেলেনা এতে সম্মতি দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ মে সকালে নাশতার সঙ্গে মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে হেলেনা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মোকাররম হেলেনার হাতে কামড় দেন। এ সময় তাসলিমা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে মোকাররম হাতুড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে উল্টো তাসলিমাকে আঘাত করতে গেলে পরিস্থিতি আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে। ধস্তাধস্তির মধ্যে হেলেনা বঁটি দিয়ে মোকাররমের গলায় কোপ দেন। পরে হেলেনার মেজো মেয়ে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এরপর তাসলিমা ধারালো বঁটি দিয়ে আরও কয়েকটি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
হত্যার পর সবাই মিলে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যান এবং রক্তমাখা ঘর পরিষ্কার করেন। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মোকাররমের মরদেহ আট টুকরো করে বস্তায় ভরে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর, ১৪ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুযোগ বুঝে মরদেহের সাত টুকরো বাসার নিচে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়। মাথার অংশটি নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।
হত্যাকাণ্ডের পর ১৬ মে তাসলিমা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরদিন হেলেনাও দুই মেয়েকে নিয়ে কাজে যোগ দেন।
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৫১ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১৫ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৫ |
| আছর | বিকাল ৪:১৭ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৩৫ |
| এশা | রাত ৮:৫৯ |