
ঢাকার দক্ষিণখানে এক নারী চিকিৎসককে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সোহেল রানাকে একদিন পর পূর্ব নির্ধারিত দিনে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ ঢাকার আদালতে হাজির করা হয় । ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ সোমবার সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ডের আদেশের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঢাকার দক্ষিণখানে নারী চিকিৎসককে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সোহেল রানা সাংবাদিকদের সামনে কথা বলে দাবি করেছেন, পুলিশ ‘অন্য কোনো আসামি ধরতে না পেরে’ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জুতারর ছাপের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তারের কথা বললেও সোহেল রানার প্রশ্ন, তিনি ঘটনা সাজিয়ে থাকলে সেখানে কি তার জুতার ছাপ রাখার কথা?
গত বৃহস্পতিবার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির বাসা থেকে চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে চোরেরা পিনুকে হত্যা করে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
তবে জানালার যে অংশে গ্রিল কাটা হয়েছে, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা।
এরপর বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়। ওই জুতা চিকিৎসকের স্বামী সোহেল রানার।
পিনুকে খুনের ঘটনায় তার বোন সারাহ সুলতানা পলি শুক্রবার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে এ মামলা করেন। পরে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার ১আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন।
সে অনুযায়ী সোহেল রানাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী শাহাবুদ্দিন শেখ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “উনি (আসামি) কে? স্বামী। এজাহার, এফআইআরে নাম নাই। মামলা করেছে ভিকটিমের বোন। কিন্তু তার (সোহেল রানা) নাম দেয়নি। তাকে রিমান্ডের নেওয়ার মত পারিপার্শ্বিক কিছু নেই। তার জামিন দেওয়া হোক।”
এরপর বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, তাদের ঝগড়া হত কি না।
জবাবে সোহেল রানা বলেন, “মনোমালিন্য হত। তবে ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে ঝগড়া হয়নি।”
কী নিয়ে ঝগড়া হতো জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, “পারিবারিক বিষয় নিয়ে।”
বিচারক সোহেল রানার কাছে জানতে চান, তিনি কী করেন। জবাবে আসামি বলেন, “প্রাইভেট জব।”
আর স্ত্রী কি করতেন জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, “গৃহিনী।”
পরে বিচারক তকে দুই দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সোহেল রানা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এটা সম্পূর্ণ চুরির ঘটনা। বাসায় চুরি করতে এসে স্বর্ণ, গয়না নিয়ে গেছে।
“আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিল। সে জেগে যাওয়ায় বাঁচার জন্য (চোর) তাকে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় আমি আমার কোম্পানির প্রোজেক্ট সাইটে ছিলাম। আমি আমার মেয়ের টিচারের ফোন পেয়ে বিষয়টা জানতে পারি।”
তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, “পুলিশ অন্য কোনো আসামি ধরতে পারেনি। আমার স্ত্রীর বোনেরা মনে করছে, আমাদের (স্বামী-স্ত্রী) মাঝে মনোমালিন্য ছিল। তারা মনে করছে, আমি এটা করেছি।
“আমি আসলেই কিছু জানি না। আমাকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। ২/৩ দিন আমাকে থানায় রাখা হয়েছে। তারপর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কেরানীগঞ্জে। তার বোনরা থানায় ছিল। তাদের সাথে কথা বলে কি করেছে আমি কিছু জানি না। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য তো সারাজীবনই থাকে কম বেশি।”
পায়ের ছাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বাসার গ্রিল কেটে যদি বাইরের লোক ঢোকে, সেখানে কি আমার পায়ের ছাপ পাওয়ার কথা? এটা কোন যুক্তিতে আসলে আমি বুঝি না।
“আমি যদি করে থাকি (হত্যা), আমার পায়ের ছাপ ওখানে থাকবে, আমি যদি ব্যাপারটা সাজাই?”
স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম ছিল কিনা, সেই গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সোহেল রানা বলেন, “আজকাল ফেইসবুকের যুগে কম-বেশি সবার প্রতি সবার কম-বেশি অভিযোগ থাকে। আমার স্ত্রী, সহধর্মনী, ২০ বছরের সংসার আমাদের। আমার বাচ্চার মা, এটা কোনোভাবেই পসিবল না।”
সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে একটি আবাসন কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রানা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে পিনুকে একা বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। কেউ আনতে না যাওয়ায় বিকালে মেয়ে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে সে দেখে, ঘরের দরজা খোলা, তবে চাপানো।
শিশুটি দেখতে পায়, তার মা খাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার মুখের উপর বালিশ রাখা। মাকে ডাকাডাকি করে কোনো শব্দ না পেয়ে সে মুখের ওপর থেকে বালিশ সরিয়ে দেয়।
মায়ের হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ বুঝতে পেরে বাসা থেকে আবার স্কুলে যায় মেয়েটি। প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে সে বাবাকে ফোন করে ঘটনা জানায়।
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:০৭ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:২৯ |
| যোহর | দুপুর ১:০৫ |
| আছর | বিকাল ৪:২৯ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪০ |
| এশা | রাত ৯:০২ |