আজ শুক্রবার | ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৭ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ৪:২৫

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক আনুষ্ঠানিক বদলির নির্দেশ জারির ১৪ মাস পরও বার্লিনে অবস্থতি বাংলাদেশ দূতাবাস ছাড়েননি এক বিতর্কিত বাংলাদেশি কূটনীতিক। তার নাম তানভীর কবির। বিতর্কিত এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশ অমান্য, প্রশাসনিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন।
বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (প্রজেক্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তানভীর কবির। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে জার্মানিতে কর্মরত এই কূটনীতিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত তিন বছরের মেয়াদ অতিক্রম করেছেন। তার দায়িত্বকাল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হলে একই বছরের ২১ নভেম্বর তাকে ইসলামাবাদ মিশনে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে লিখিত বদলির আদেশ জারি করা হয়।
পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর পাঠানো আরেকটি স্মারকে দ্রুত নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হলেও তিনি বার্লিনেই থেকে যান। দূতাবাসের নিজস্ব চ্যান্সারি ভবনের নির্মাণকাজ তদারকির প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বার্লিনে থাকার আবেদন করেন, যা তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। তবু কেন নির্দেশ কার্যকর হয়নি—এ বিষয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা নেই।
২০২৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রদূত বদলি হওয়ার পর তানভীর কবির ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধানের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের অভিযোগ বাড়তে থাকে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি।
একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠিত আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই দূতাবাস পরিচালিত হচ্ছিল, অথচ ঢাকার পক্ষ থেকে কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি।
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশের দাবি, মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, জার্মানিতে একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রবাসী শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বার্লিনে বর্তমান রাষ্ট্রদূতের সমর্থন থাকায় তিনি কার্যত সুরক্ষা পাচ্ছেন। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। কূটনীতিকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের ধারণাই পররাষ্ট্রসেবার শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর।
২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের জার্মানি সফর উপলক্ষে ২৩টি গাড়ি ভাড়া নেয়া হয় এবং অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হয়। পরে সফর স্থগিত হলে বাকি অর্থ দাবি করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আদালতে মামলা করে।
জার্মান আদালতে দূতাবাস মামলায় হেরে যায়। আপিলের সুযোগ থাকলেও সময়মতো পদক্ষেপ না নেয়ায় মামলার সময়সীমা পার হয়ে যায় বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত সুদ ও আইনি খরচসহ প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ইউরো পরিশোধের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কর্মকর্তারা মনে করেন, সঠিকভাবে মামলা পরিচালনা করা হলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো যেত। এছাড়া পূর্ব অনুমোদন ছাড়া আপিল দায়ের এবং পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনাতেও আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দূতাবাস সূত্রে অভিযোগ, ব্যাংক ট্রান্সফারের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ডেবিট কার্ড ব্যবহার, নিয়মিত এটিএম থেকে নগদ উত্তোলন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া ব্যয় দেখানোর ঘটনা বেড়েছে। হিসাব বিভাগ এসব লেনদেন সমন্বয়ে সমস্যায় পড়ছে বলে জানা গেছে।
কিছু ক্ষেত্রে পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় করে পরে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। দূতাবাস ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বজনিত জরিমানাও সরকারকে দিতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, নির্ধারিত বৈঠকে অনুপস্থিতি ও অপ্রয়োজনীয় নোট ভারবাল পাঠানো নিয়ে জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কর্মীদের পক্ষ থেকেও আচরণগত অভিযোগ জমা পড়েছে।
২০১৩ সালে জেদ্দায় দায়িত্ব পালনের সময় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষের অভিযোগে তাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল বলে সাবেক সহকর্মীরা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে মেক্সিকোতেও সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।
২০২৫ সালের এপ্রিলে স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক নাজমুন নেসা পিয়ারীকে অনুষ্ঠান চলাকালে বের করে দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে, যা সাংস্কৃতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।
সম্প্রতি ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ সংক্রান্ত একটি ঘটনাও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দূতাবাসের পক্ষ থেকে জার্মান কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে এক নারী ও তার সন্তানের ভিসা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে জার্মান সীমান্ত পুলিশ বিষয়টিকে নিয়মিত প্রশাসনিক ঘটনা হিসেবে না দেখে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে বলে জানা গেছে।
কূটনীতিকদের মতে, বদলির নির্দেশ কার্যকর না হওয়া, আর্থিক বিতর্ক এবং স্বাগতিক দেশের কর্তৃপক্ষের অস্বস্তি—সব মিলিয়ে জার্মানিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তানভীর কবির সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে অভিযোগগুলোর নির্দিষ্ট কোনো বিস্তারিত জবাব তিনি দেননি।সূত্র : মানবজমিন
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৬:০২ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:১৭ |
| যোহর | দুপুর ১:১০ |
| আছর | বিকাল ৪:৩২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:০৩ |
| এশা | রাত ৮:১৮ |