আজ সোমবার | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১লা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১১:২১

ঢাকা, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (১৮ মে, ২০২৬):স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার র্যাব ফোর্সেসের আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট এবং সুসংহত নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানী ঢাকায় র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে আয়োজিত বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, র্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ (৪৪ শতাংশ), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (৪৪ শতাংশ) এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
র্যাবের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (Sanction) প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তাঁর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার উদগ্র বাসনা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই বাহিনীকে পুতুলের মতো ব্যবহার করেছিলেন। কিছুসংখ্যক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ সমগ্র প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে স্ব-স্ব বাহিনীর নিজস্ব আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুশাসন দেওয়া হয়েছে। একই সাথে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের অধীনে যখন এই বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুনভাবে নামকরণ (Rename) করা হবে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।
আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর যাবত র্যাব সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাধীন আইনের অধীনে পরিচালিত না হয়ে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBN) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে মূলত ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স এভাবে সুদীর্ঘকাল অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় চলতে পারে না। এই আইনি ত্রুটি দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘আইন প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে, যা মন্ত্রী নিজেই সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন। প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাহিনীর সুনির্দিষ্ট কর্তৃত্ব (Authority), দায়িত্বের পরিধি (Responsibility) এবং একই সাথে কঠোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা (Transparency and Accountability) নিশ্চিতকরণের বিধান যুক্ত করা হবে। বাহিনীর বর্তমান সম্পদ, লজিস্টিকস ও সক্ষমতা এই নতুন আইনের অধীনে প্রতিস্থাপিত হবে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুপ্রসিদ্ধ প্রবাদ ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ (Morning shows the day) উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন মাসে পুলিশ, র্যাব কিংবা অন্য কোনো বাহিনীকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কোনো দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এই বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য।”
বিগত সরকারের আমলের গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত এবং বিচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পূর্ববর্তী গুম কমিশনের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের (Punitive measures) সুনির্দিষ্ট আইনগত এখতিয়ার ছিল না। ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল (ICT) আইন সংশোধন ও শক্তিশালীকরণের কাজ করছে। এই আইনের সংস্কার সম্পন্ন হলে গুমের শিকার, গুমের হুমকিপ্রাপ্ত কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সকল প্রকার অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় এই বিশেষ আদালতেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভিকটিম বা তাদের পরিবার সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির, র্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ-সহ বিভিন্ন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৫১ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১৫ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৫ |
| আছর | বিকাল ৪:১৭ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৩৫ |
| এশা | রাত ৮:৫৯ |