
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকসহ নানা অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও থেমে নেই এসব অপরাধপ্রবণতা।
এসব অপরাধে সম্প্রতি বিশেষভাবে জড়িয়ে পড়ছে বিএনপি এবং তাদের দলের অঙ্গসংগঠনের মুষ্টিমেয় কিছু লোভী নেতাকর্মী। এ নিয়ে বিশেষভাবে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি।
আর এসব অপরাধের সাথে যে বা যারা জড়িয়ে পড়ছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে বহিষ্কারও হচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী। অপরাধ দমনই বিএনপি সরকারের মূল উদ্দেশ্য—এমন প্রচারণা চালাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। যেকোনো মূল্যে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশ্বস্ত করছে বিএনপি সরকার।
সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান বাবু ওরফে পাগলা মতি দলের প্রভাব খাটিয়ে দক্ষিণখান থানার দক্ষিণ আজমপুরের মুন্সি মার্কেট এলাকার একজন সাবেক স্কুলমাস্টার মো. রমিজ উদ্দিন খানের খরিদ করা জায়গায় একটি দোকানঘর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গত ২৪/০৮/২০২৪ তারিখে বন্ধ করে দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবীকৃত চাঁদা প্রদান না করলে নানা হুমকি-ধমকি প্রদান করে এই পাগলা মতি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো দোকানঘরটি দখল করে রেখেছে।
এ নিয়ে দুইবার দক্ষিণখান থানা বিএনপির এই নেতা মতিউর রহমান মতি দোকানঘরটি বন্ধ করে দেয়।দুই বছর যাবৎ দোকা ঘরটি এখনো মতি দখল করে রেখেছে ।
এর আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর গত ৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখ ভোর ৪টায় তার দলবল নিয়ে ঘরটি দখল করে তালাবদ্ধ করে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। সেই সময় যৌথ বাহিনীর কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলে তৎকালীন যৌথবাহিনীর সদস্যরা সরেজমিনে এসে ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখ রাতে ঘরের তালা খুলে দিতে বাধ্য করে সন্ত্রাসী ও বিএনপি নেতা মতিকে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার দ্বিতীয়বারের মতো ২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জোরপূর্বক দোকানঘরটি দখলে নিয়ে দোকানে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বিএনপির এই নেতা।
অন্যদিকে এর আগে প্রথমবার এই জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে উত্তরা বিভাগের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনারের কাছে দ্বারস্থ হন মাস্টার রমিজ উদ্দিন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা বিভাগের তৎকালীন দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের সহযোগিতায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার গোস্বামী ১০/০৪/২০২২ তারিখে বাদী-বিবাদীর দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখে মাস্টার রমিজ উদ্দিন এর পক্ষে রায় দিয়ে সমস্যার সমাধান করে দেন। তারপরেও দোকানঘর দখলে নেওয়ার তৎপরতা বন্ধ রাখেননি সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মতি।
বর্তমান মালিক মাস্টার রমিজ উদ্দিন মূলত জায়গাটি খরিদ করেন মো. আনিস আহমেদের কাছ থেকে, ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি। এরপর থেকে সব ধরনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন মাস্টার রমিজ উদ্দিন।
মূলত ভূমিদস্যু, প্রতারক এবং কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে মতিউর রহমান মতির।
সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও প্রতারক মতির কবল থেকে রক্ষা পেতে এবং দখলকৃত দোকানঘর পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বর্তমান মালিক মাস্টার রমিজ উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৫/১০/২০২৪ তারিখে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ৩৪ নম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের দপ্তরে তদন্তসাপেক্ষে প্রেরণ করেন। এক পর্যায়ে মাস্টার রমিজ উদ্দিনের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি বরাবর অভিযোগ:
এত কিছু পরেও মাস্টার রমিজ উদ্দিন এখনো দোকানঘরটি কোনোভাবেই ভূমিদস্যু, প্রতারক ও কিশোর গ্যাংপ্রধান বিএনপি নামধারী মতির কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। মতিউর রহমান মতি বিএনপির দক্ষিণখান থানার যুগ্ম আহ্বায়ক পদধারী হওয়ায় অত্যন্ত নিরুপায় হয়ে সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন গত ২৯/০৮/২০২৬ তারিখে। এই অভিযোগপত্রটি বুঝে নেন সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর দায়িত্বপ্রাপ্ত) এ বি এম রাজ্জাক।
ঢাকা-১৮ আসনের এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে অবহিতকরণ”:
যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম রাজ্জাক অভিযোগের বিষয়ে এক পর্যায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে অবহিত করেন। এস এম জাহাঙ্গীর বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় এনে বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েকবার মৌখিকভাবে দক্ষিণখান থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতিকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু এমপি জাহাঙ্গীর হোসেনের সতর্কবার্তাকে কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না এই সন্ত্রাসী মতি। বরং আরও বেপরোয়া হয়ে ভুক্তভোগী মাস্টার রমিজ উদ্দিনকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের এমপি মহোদয়কে বিষয়টি জানানোর কারণে ক্ষিপ্ত হন মতিউর রহমান মতি। অভিযোগকারী বয়স্ক মাস্টার রমিজ উদ্দিনের দখলকৃত দোকানঘরটি ছেড়ে দিতে এই সন্ত্রাসী মতিকে অনুরোধ করলে এক পর্যায়ে মতি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৯/০৯/২০২৬ তারিখে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মাস্টার রমিজ উদ্দিনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন।
এই হামলার বিষয়ে দক্ষিণখান থানায় ০৫/১০/২০২৬ তারিখে সাধারণ ডায়েরি করেন মাস্টার রমিজ উদ্দিন। সাধারণ ডায়েরি নম্বর: ৩১৫।
দক্ষিণখান থানায় ডায়েরি করার পরপরই ৭/১০/২০২৬ তারিখে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ঢাকা-১-এর অধিনায়ক বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন মাস্টার রমিজ উদ্দিন। সেটিও এখন তদন্তাধীন রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, এই বিএনপি নেতা যখন উত্তরা পূর্ব থানায় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। ২০২০ সালে তৎকালীন উপনির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকরা বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসভবনে দলবল নিয়ে ইট-পাথর ও ডিম নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয় হাইকমান্ড। এরপর এই সন্ত্রাসী মতিসহ ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে প্রবেশ করে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পান মতিউর রহমান মতি । এরপর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে কিশোর গ্যাং বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করে রাখেন মতিউর রহমান মতি। তাঁর এই কিশোর গ্যাংয়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করছে নিলয় ও জুয়েল নামের দুই সন্ত্রাসী। নিলয়ের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় ২টি হত্যা মামলাসহ ১২ টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকবার আটকও হয় এই নিলয়। জুয়েলও একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ, মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামি। এলাকার সব অপরাধ বাণিজ্য, ডিশ ও ময়লার ব্যবসা দখল করে অপরাধের রাজত্ব বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে এই বাহিনী। এই কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মী হিসেবে চিহ্নিত । আর বর্তমানে এদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নেতা মতি ।
এলাকার সর্বস্তরের জনগণসহ ভুক্তভোগী মাস্টার রমিজ উদ্দিন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিচার দাবি করে বলেছেন, দলের নাম ব্যবহার করে যে ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন, এভাবে চলতে থাকলে দলের ওপর এর প্রভাব পড়বে। অচিরেই এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত করে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী মাস্টার রমিজ উদ্দিন তাঁর দোকানঘর উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তার বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে—এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এলাকার সর্বস্তরের শান্তিপ্রিয় জনগণ।
এলাকার সর্বস্তরের জনগণসহ , ভুক্তভুগি মাস্টার রমিজ উদ্দিন এই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিচার দাবি করে বলেছেন , দলের নাম ব্যবহার করে যে ধরণের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এই ভাবে চলতে থাকলে বিএনপি সরকারের উপর এর প্রভাব পড়বে। অচিরেই এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠ তদন্ত করে সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ।
ভুক্ত ভুগি মাস্টার রমিজ উদ্দিন তার দোকান ঘর উদ্ধার এবং জীবনের নিরাপত্তার বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন । বিচারের বাণী যেন নিবৃত্তে না কাঁদে এমনটা যেন না হয় এই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এলজার সর্বস্তরের শান্তি প্রিয় জনগণ ।এমপি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতেই এই ধরণের অপকর্ম করছে বলে এলাকার সুধী জনরা মনে করেন ।
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৩৮ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৫৩ |
| যোহর | দুপুর ১২:৪৫ |
| আছর | বিকাল ৪:০৭ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:৩৭ |
| এশা | রাত ৭:৫২ |