আজ শনিবার | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ৯:২৮

মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ইরানের খার্গ দ্বীপ দেশটির মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর ১৫ দিন পর, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপে হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চল চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে এবং মূল ভূখণ্ডের বুশেহর প্রদেশ থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাথুরে চুনাপাথরের দ্বীপে গজেল হরিণের বসবাস আছে। দ্বীপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫ কিলোমিটার। ট্রাম্প খার্গ দ্বীপকে ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ বললেও, বহু বছর আগে খ্যাতিমান ইরানি লেখক জালাল আল-এ-আহমাদ একে পারস্য উপসাগরের ‘অরফান পার্ল’ নামে আখ্যায়িত করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
দ্বীপটির স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ ট্যাংক, লোডিং টার্মিনাল এবং পাইপলাইন। যা দেশটির তেল খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এই টার্মিনাল তিনটি প্রধান অফশোর তেলক্ষেত্র- আবুজার, ফরুজান এবং দোরুদ থেকে অপরিশোধিত তেল গ্রহণ করে। এরপর জটিল সাবসি পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তা স্থলভাগের প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে সংরক্ষণ বা আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়। ইরানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্রগুলোর মধ্যে আহভাজ, মারুন এবং গাচসারান থেকেও সরাসরি খার্গের সংরক্ষণ ট্যাংকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আসে। এসব স্থাপনা বছরে প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিচালনা করে। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্বালানি গবেষক পেত্রাস কাটিনাস বলেন, খার্গ দ্বীপ ইরান সরকারের অর্থায়ন ও সামরিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ইরান যদি খার্গের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে দেশটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ইরানের তেল খাতের সম্প্রসারণের সময় খার্গে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ হয়।
কারণ দেশের উপকূলের বড় অংশই সুপারট্যাংকার নোঙরের জন্য খুব অগভীর ছিল। তেলের গুরুত্বের বাইরেও দ্বীপটিতে রয়েছে অত্যন্ত সম্মানিত সপ্তম শতাব্দীর মির মোহাম্মদ মাজার, আচেমেনীয় আমলের শিলালিপি ও মশালসমৃদ্ধ মির আরাম মাজার, জরথুস্ত্রীয় সমাধিস্থল, খ্রিস্টান কবর, সাসানীয় যুগের সমাধি, ইসলামি কবরস্থান এবং ১৭৪৭ সালের একটি ডাচ দুর্গ ও বাগানের ধ্বংসাবশেষ। কেশম দ্বীপ এবং ছোট দ্বীপ আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনবও পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ। এগুলো তাদের তেল স্থাপনা ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল খার্গ দ্বীপকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। পরে তারা ইঙ্গিত দেয়, দ্বীপটি দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার জানায়, পেন্টাগন জাপানভিত্তিক উভচর জাহাজ ইউএসএস ট্রিপোলিকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে, সঙ্গে রয়েছে প্রায় ২৫০০ মেরিন।
কেন খার্গে হামলা হলো?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনী দ্বীপটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে এবং দ্বীপের তেল অবকাঠামোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ইরান, বা অন্য কেউ, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমি অবিলম্বে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব। ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। কারণ ইরান কার্যত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ওপেকভুক্ত চতুর্থ বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন উপসাগর অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেয়া হবে না। তবে এই হামলার পর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসার সম্ভাবনা কম। কারণ তেহরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি তাৎক্ষণিকভাবে স্থবির হয়ে পড়তে পারে। জে পি মরগ্যান সতর্ক করেছে, এর ফলে হরমুজ প্রণালি বা আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ দেখা দিতে পারে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এর আগে বলেন, দ্বীপগুলোতে হামলা হলে ইরান সব ধরনের সংযম ত্যাগ করবে এবং ট্রাম্পই মার্কিন সেনাদের রক্তের জন্য দায়ী থাকবেন।
শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৫৪ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:০৯ |
| যোহর | দুপুর ১:০৮ |
| আছর | বিকাল ৪:৩২ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:০৭ |
| এশা | রাত ৮:২২ |