আজ মঙ্গলবার | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ২:২৩

নজরুল ইসলাম মানিক, সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সাভার ও আশুলিয়ায় পশু কুরবানীতে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি শান দেওয়া থেকে শুরু করে অস্ত্র তৈরীতে কামারপাড়ায় টুংটাং শব্দে মুখরিত। কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের কর্মযজ্ঞ। নতুন তৈরীর সঙ্গে কামাররা ব্যস্ত পুরোনো দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতে। আবার মোটরচালিত মেশিনে শান দেওয়ার কাজও চলছে। সারা বছর তাদের বসে থাকতে হয় বলে বছরের একটি দিনেই পুষিয়ে নেওয়ার চিন্তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই তাদের। এজন্যই তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে এসব অঞ্চলের কয়েকটি কামাড় দোকানে ঘুরে দেখা গেছে যে, আগের তুলনায় কাজ বেড়েছে কামারদের। অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমী কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে। অথচ সারা বছরই তাদের কাটে অলস সময়। এসব সরঞ্জামাদী তৈরীতে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে এবারে দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দাম অনেকটা বেশি বলেও জানা যায়। দিনরাত সমান তালে এখন ছুরি, চাপাতি, দা, বটি, চাকুসহ কোরবানীর বিভিন্ন মাধ্যম তৈরী করছেন তারা। সেই সঙ্গে বিক্রিও হচ্ছে সমান তালে।
কর্মকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে দা, বঁটি ও ছুরি তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম একটু কম। দেশি চাপাতি আকারভেদে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি স্টেইনলেস স্টিলের চাপাতি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পড়ছে। দা ও বটি আকার অনুযায়ী দা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং বটি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ছোট ছুরি ১০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড় বা মাঝারি সাইজের জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
আশুলিয়ার কামার পাড়ার ভবেশ চন্দ্র নামে এক কারিগর জানান, সারা বছর বলা চলে বসে থাকি। বছরের একটি দিনের অপেক্ষায় থাকি। তাই একয়দিন কাজ করে যেতে হবে। কয়লার সহ অন্য কাঁচামালের দাম বেশী থাকায় এবছরে কোরবানী দেওয়ার সরঞ্জামাদীর দামও একটু বেশী। বছরের একটি সময়ই বিক্রি ও তৈরির ধুম পড়ে যায়। তবে বিগত সময়ের চেয়ে এবার এসব সরঞ্জামের দাম বাড়তি হলেও ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে। ক্রেতারাও তাদের পছন্দের ধারলো যন্ত্রপাতি অস্ত্রগুলো শান দিচ্ছেন।
আশুলিয়া বাজার কামারপাড়ায় দা, বঁটি শান দিতে আসা রায়হান নামের এক ক্রেতা জানান, দুই বছর ধরে আমি দা, বঁটি শান দেই না। মরিচা ধরেছে, ধারও একটু কমে গেছে। এজন্য একটু আগেভাগে শান দিতে এলাম। অন্যদিকে চাপাতি কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, অন্যবারের তুলনায় এবারের দাম বেশী। তবে দাম কম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
এবিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের কামাররা কোরবানীকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা এখনো আমাদের কাছে আসেনি, যদি তাদের অনুদানের প্রয়োজন হয় এবং আমাদের কাছে আসে, তাহলে তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগীতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৪৮ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১৩ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৫ |
| আছর | বিকাল ৪:১৬ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৩৮ |
| এশা | রাত ৯:০৩ |