
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:- রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিন পাওয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ ও ‘হানি ট্র্যাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর এবং প্রধান আসামির দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে।
আজ ২৫ অক্টোবর(২০২৬) রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত নিহতের ভাই সাইফুদ্দিন মালেক এই দাবি জানান।এ সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট (২০২৬) তারিখে সন্ধ্যায় ভাটারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্লোর থেকে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাগরের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সাগরের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপে। তিনি পূর্বে চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ ও পরবর্তীতে ঢাকায় গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ঢাকায় স্থানান্তরের পর অভিযুক্ত মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সাথে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সাগরের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে গত ১৯ আগস্ট সাগরের জন্মদিন পালনের কথা বলে তাকে ঢাকায় আহ্বান জানান রিয়া। রিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ১৯ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম থেকে বিমানে ঢাকায় পৌঁছান সাগর। ২১ আগস্ট পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে আসার জন্য রিটার্ন টিকিটও কেটেছিলেন তিনি। কিন্তু জন্মদিনের দিন (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই মালেক বলেন, “মরদেহ উদ্ধারের পর ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় আমরা একটি হত্যা মামলা দায়ের করি (মামলা নম্বর: ৪৪)। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, ঘটনার দুই মাস অতিবাহিত হলেও প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়া কে আটক করা হয় নি এবং হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিয়াকে বটি হাতে সাগরকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ২৩ আগস্ট পুলিশের সূত্রে আমরা জানতে পারি, লাশ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার মুসা এবং এক অজ্ঞাত নারী উপস্থিত ছিলেন।”
পরিবারের দাবি, এত স্পষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও প্রধান আসামি কীভাবে জামিন পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। একই সাথে ময়নাতদন্ত (পোস্ট মোর্টেম) রিপোর্টেও গরমিল করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, প্রধান আসামি জামিনে বাইরে থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হতে পারে কিংবা আসামি আইনগত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে পারেন। তাই মামলাটির সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে অবিলম্বে পিবিআই-এ হস্তান্তর, ঘটনাস্থলের আলামত ও কল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থেকে সংহতি প্রকাশ করার কথা রয়েছে নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ, ফেডারেল অ্যাটর্নি মি. রেমন্ড আব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)-এর সাবেক এজেন্ট মি. মাইকেল ডোনোফোর।
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৪৪ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৭:০০ |
| যোহর | দুপুর ১২:৪২ |
| আছর | বিকাল ৩:৫৯ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৬:২৪ |
| এশা | রাত ৭:৪০ |