আজ শনিবার | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ |১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি | রাত ১২:১৪

অবিশ্বাস্য এক রণকৌশল এবং সাহসিকতার সংমিশ্রণে পাল্টে গেল পৃথিবীর ভূ-রাজনীতি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং ইজরায়েলের দাম্ভিকতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ইরান এখন উত্তর কোরিয়ার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘হোয়াসং-১৮’ (Hwasong-18) ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলের (ICBM) অধিকারী। এমন এক নজিরবিহীন এবং গোপন সামরিক সহযোগিতা যার কথা ঘূর্ণাক্ষরেও টের পায়নি বিশ্বের তথাকথিত শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) বা মোসাদ। এমন বেশ কিছু অসমর্থিত তথ্য এই মুহূর্তে অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্মে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গোপন সামরিক অপারেশন : বিশ্ব যখন ইউক্রেন আর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অত্যন্ত সন্তর্পণে তেহরান এবং পিয়ংইয়ং সম্পন্ন করেছে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমরাস্ত্র স্থানান্তর। গত ১৪ মাস ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে, ধাপে ধাপে এই মিসাইল গুলো ইরানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার স্যাটেলাইটগুলো যখন উত্তর কোরিয়ার মূল লঞ্চিং প্যাডগুলোতে নজর রাখছিল, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন গোপন কোনো আস্তানা থেকে এই মিসাইলগুলো চিনের ভূখণ্ড এবং মধ্য এশিয়ার দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে সরাসরি ইরানের মাটির গভীরে তৈরি আধুনিক সামরিক গুদামে গিয়ে পৌঁছেছে। যখন ওয়াশিংটন বিষয়টি টের পেয়েছে, ততক্ষণে অপারেশন সম্পন্ন! আমেরিকার আকাশচুম্বী অহংকার এখন কেবলই নীরব কান্নায় পর্যবসিত। এমনটাই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধের ময়দানে ইরানের ‘তুরুপের তাস’: কেন এই মিসাইল অজেয়? যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই মিসাইল গুলো ইরানকে এমন কিছু সুবিধা দেবে যা এর আগে কোনো মধ্যপ্রাচ্যের দেশের ছিল না: নিমিষেই পাল্টা আঘাত (First-Strike Capability): যুদ্ধের সময় সবচেয়ে বড় ভয় থাকে শত্রু পক্ষ আগে আক্রমণ করে মিসাইলগুলো ধ্বংস করে দেবে কিনা। কিন্তু ‘হোয়াসং-১৮’ সলিড-ফুয়েল চালিত হওয়ায় এটি আগে থেকে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন পড়ে না। ইরান কয়েক মিনিটের মধ্যে পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারবে, যা পেন্টাগনের জেনারেলদের পালানোর পথও দেবে না।
মোবাইল লঞ্চার: অদৃশ্য আতঙ্ক: এই মিসাইলগুলো ট্রাকের মতো বড় মোবাইল লঞ্চারে বহন করা যায়। ইরানের বিশাল মরুভূমি এবং পাহাড়ি সুড়ঙ্গের কোথায় এগুলো লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করা অসম্ভব। ফলে আমেরিকা চাইলেও ইরানের মিসাইল শক্তিকে ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম হামলা চালিয়ে ধ্বংস করতে পারবে না।
জিপিএস জ্যামিং এখন অতীত: আধুনিক যুদ্ধে আমেরিকা জিপিএস সংকেত বিকল করে দিয়ে শত্রুর মিসাইলকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে। কিন্তু এই মিসাইল নক্ষত্র দেখে (Stellar Navigation) পথ চলে। ফলে আকাশ কালো করে মার্কিন জ্যামিং সিগন্যাল ছেড়েও এই মিসাইলকে থামানো যাবে না; এটি নির্ভুলভাবে হোয়াইট হাউস বা তেল আবিবের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে।
প্রতিরক্ষা বুহ্য ভেদকারী হাইপারসনিক গতি: ইজরায়েলের ‘অ্যারো-৩’ বা আমেরিকার ‘থাড’ (THAAD) মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম এই মিসাইলকে আটকাতে সক্ষম নয়। কারণ এর হাইপারসনিক গতি এবং মাঝ-আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা যে কোনো রাডারকে বিভ্রান্ত করে দেয়। মিসাইল গুলো একসঙ্গে ছুড়লে বিশ্বের কোনো ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষেই তা ঠেকানো সম্ভব নয়।
ক্ষমতার ভারসাম্য: পলায়নপর ওয়াশিংটন : আমেরিকার হাতে যেখানে মাত্র ৪০০টি মিনুটম্যান-৩ (Minuteman III) আইসিবিএম আছে, সেখানে ইরান এক রাতেই অত্যাধুনিক মোবাইল আইসিবিএম-এর মালিক হয়ে বিশ্বকে জানিয়ে দিল—আমেরিকা আর এই অঞ্চলের একচ্ছত্র অধিপতি নয়।
হোয়াইট হাউসে এখন জরুরি সভার পর সভা চলছে, পেন্টাগনের জেনারেলদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। ইরান এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং একটি বিশ্বশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ইজরায়েলের তথাকথিত ‘কোয়ালিটেটিভ এজ’ আজ ইতিহাসের পাতায় বিলীন হওয়ার পথে। ইরান কোনো হইচই না করে নিঃশব্দে নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছে।
হোয়াসং-১৮ মিসাইল এখন ইরানের পাহাড়ি গুহায় প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো উস্কানির জবাবে তেহরানের একটি আঙুলের ইশারায় বদলে যেতে পারে আমেরিকার মানচিত্র। বিশ্ব আজ এক নতুন বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছে, যেখানে পশ্চিমের পরাজয় নিশ্চিত আর তেহরানের জয়গান অনিবার্য এমনটাই ধারণা করছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য ও ফাঁস হওয়া গোপন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা।
উপরে প্রদত্ত তথ্যগুলো আমাদের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব হয়নি শুধুমাত্র বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ভিডিও হতে তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে।
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:৩৩ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৪৯ |
| যোহর | দুপুর ১:০২ |
| আছর | বিকাল ৪:২৯ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:১৫ |
| এশা | রাত ৮:৩১ |