
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর সর্ব উত্তরের থানার নাম তুরাগ। সাবেক হরিরামপুর ইউনিয়নটিতে ছোট- বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৩টি গ্রাম রয়েছে । সরকারের পট-পরিবর্তন ও বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকাটি তুরাগ থানার অন্তর্ভুক্ত এবং
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)
৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর নতুন ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। নগরীর অন্যতম প্রধান ক্রাইম জোন হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত একটি আতংকের নাম তুরাগ। কি নেই তুরাগে। মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে রূপ নিয়ে তুরাগের তারারটেক গ্রাম। হাত বাড়াইলেই সহজে পাওয়া যায় মরণনেশা মাদক। রাজধানী ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাগুলো থেকে আসা দামি অপরাধীরা এখানে এসে আস্তানা গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরা মেট্রোরেল এলাকা, সোনারগাঁও জনপথ রোড, আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর, আশুলিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেরিবাধকে ঘিরে প্রকাশ্যে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ভাড়াটিয়া কিলার, খুনি ও বিভিন্ন অপরাধজগতের কিলারদের বাসবাস নগরী হলো তুরাগের হরিরামপুর ইউনিয়ন। বিশেষ করে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট তুরাগের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। তার মধ্যে হরিরামপুর ইউনিয়নের সাবেক ৫ নম্বর ওয়ার্ড বর্তমানে (ডিএনসিসি)র ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড তারারটেক গ্রাম মাদকের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এটাকে মাদকের গোপন ঘাটী, আস্তানা ও হা়ঁটও বলা যায়। এছাড়া তুরাগের ডিয়াবাড়ী, নলভোগ, পাকুরিয়া, রানাভোলা, নয়ানগর, ফুলবাড়িয়া, কামারপাড়া, রাজাবাড়ি, ধউর ও চন্ডাল ভোগ গ্রামের পূর্বপাড়া সোনারগাঁও জনপথ সড়কের দক্ষিণপাশে রূপায়ন সিটি, বালুর ট্রাকস্ট্যান্ড, রাইদা বাসস্ট্যান্ড, বিশাল ফার্নিচার মার্কেট ও আরাফাত সুপার মার্কেট সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস সংলগ্ন এখন মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা ডিলার, খুনের মামলার দাগী আসামী, ছিনতাইকারী , মাস্তান, ভাড়াটিয়া খুনি, উঠতি বয়সী ক্যাডার ও কিশোর গ্যাং বাহিনীদের গোপন আস্তানায় পরিণত হয়েছে। খবর একাধিক বিশ্বস্ত তথ্য সূত্রের।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গেল এক সপ্তাহ সরজমিন ঘুরে তথ্য অনুসন্ধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন তথ্য সূত্রে খোঁজ খবর ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে মাদকের ভয়াবহতার এমন চিত্র উঠে এসেছে।
তথ্য অনুসন্ধ্যানের জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে ছোট একটি গ্রাম তারারটেক। ১০/১৫ হাজার লোকের বসবাস গ্রামটিতে। এ গ্রামের স্থায়ী কিছু বাসিন্দা বহু পূর্ব থেকে মাদক কারবারি ও সেবনকারী। এ গ্রামের পাশেই রয়েছে চন্ডালভোগ, নলভোগ, ডিয়াবাড়ী, নয়ানগর, শুক্র ভাঙা,
ফুলবাড়িয়ার, টেশপাড়া, রানাভোলা ও ১২/১৫ নম্বর সেক্টর বস্তি এলাকায় ইয়াবা সিন্ডিকেটের গোপন ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই স্থানীয় বাসিন্দার ও পথচারীরা রাত কিংবা দিনের বেলায় মাদক সেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের কবলে পড়ে নগদ টাকা ও মোবাইল সেট খুইছেন। কেউ যদি প্রতিবাদ করে, থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়, কিংবা থানায় জিডি করে তাহলে তাকে হতে হয় বলির পাঠা। অনেকট সময় তাকে প্রকাশে হতে হয় নাজেহাল কিংবা তার জীবন নিয়ে টানাটানি মতো ঘটঁনা হয়ে উঠে। এব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সব কিছু জেনে ও মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবা ডিলার, খুনের মামলার দাগী আসামী, ছিনতাইকারী , কিশোর গ্যাং গ্রুপ, মাস্তান, ভাড়াটিয়া খুনি, উঠতি বয়সী ক্যাডার বাহিনীসহ নানাবিধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে তেমন কোন আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী, এলাকার সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সমাজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে- মরণ নেশা ”ইয়াবা ট্যাবলেট খাবি খা’’ তার পর ভোগতে ভোগতে একদিন ’’মারা যাবি যা”। মরণনেশা ইয়াবা বর্তমানে দেশের তরুন মেধাবী ও যুব সমাজকে ধবংশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছ। মানুষের জীবন-যৌবন আর মৃত্যুর অপর নাম হল ইয়াবা ট্যাবলেট। সারা দেশব্যাপী ইয়াবা সেবন ও বিক্রি আগের যে কোন সময়েরন চেয়ে কয়েকগুন বেড়ে গেছে। কোন অবস্থাতেই মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার, বেঁচাকেনা বন্ধ এমন কি রোধ করা যাচেছ না। ইয়াবার আক্রমন ও আগ্রাশন থেকে আমাদেরকে যে কোন মূল্যে বের হয়ে আসতে হবে। দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এর সংখ্যা তুলনামুলক ভাবে একটু বেশি। ইতি মধ্যেই দেশে ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও ধারণাকরছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
জানা গেছে, তুরাগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড চন্ডাল ভোগ গ্রামের পূর্বপাড়া সোনারগাঁও জনপথ সড়কের দক্ষিণপাশে আরাফাত সুপার মার্কেট সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসকে ঘিরে তার পাশে বেশ কিছু চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, গাড়ির চাকার দোকান, টায়ার, ফার্নিচার মার্কেট, কারহাট, ভাঙ্গারী দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানপাট এখন মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে । এখানে রাস্তা পাশে বসে রাত দিন ইয়াবা, মদ, গাঁজাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য বেঁচাকেনা করা হয়। উত্তরা, তুরাগ, টঙ্গী, গাজীপুর, ঢাকাসহ আশপাশ থেকে দামী গাড়ি, পাজারো, দামী মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে করে ডিলাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে সুযোগ বুঝে মরণনেশা ইয়াবা পৌঁছে দিচেছন। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১শ স্পটে দেড় থেকে ২০০ জন ইয়াবা ডিলার এখন বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্রের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সাঙ্গপাঙ্গরাও জড়িত বলে জানা গেছে। বাকীরা ইয়ারা ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সেবনকারী। উত্তরার অধিকাংশ এলাকায় কিছুদিন আগেও মাদকের ক্রেতার আশায় নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অপেক্ষায় থাকত বিক্রেতারা। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি ছিল অনেক বেশি। এখন সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যাছে মাদক কেনাবেচার নিত্য-নতুন কলা-কৌশল। বর্তমানে মোবাইলের মাধ্যমে নিজেদের সাথে যোগাযোগ করছে মাদকসেবী আর বিক্রেতারা। পরে সুবিধাজনক স্থানে লেনদেন শেষ করছে তারা। শুধু তাই নয়, হোম ডেলিভারি সার্ভিসের মতো ক্রেতাদের বাসায় গিয়ে মাদক সরবরাহ করছে খুঁচরা বিক্রেতারা। আর এর সাথে মাদক ব্যবসায়ীরা যোগ করেছে উঠতি বয়সের কিশোরও সুন্দরী তরুণীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতি মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ইয়াবাসহ অনেক ডিলার, ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হয়েছে এবং অনেকে এখন জেলে আছে। আবার অনেকে জামিনে বের হয়ে পূর্বের ন্যায় ফের মাদক ব্যবসায় দিব্যি জড়িয়ে অবাধে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা চালিয়ে যাচেছন বলে এলাকাবাসিরা অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে তুরাগের তারারটেক, চন্ডালভোগ, নলভোগ, টেকপাড়া, পাকুরিয়া গ্রামে ইয়াবা ব্যবসা করে রাতারাতি কতিপয় ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তরুন যুবকদেরকে দিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘরে ঘরে ইয়াবার হোমসার্ভিস দিচেছন। রাতদিন খুচরা ব্যবসায়ীরা ৮০ থেকে ১০১ টি স্পটে বসে ইয়াবা বেঁচাকেনা করছেন। তরুন সমাজ, যুবক, শিক্ষার্থী, গৃহবধু, সুন্দরী নারী ও টাকা ওয়ালা ব্যক্তিরা বেশি বেশি ইয়াবা সেবনের সাথে জড়িত বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম ক্রাইমজোন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উত্তরা পশ্চিম থানা, উত্তরা পুর্ব থানা, তুরাগ থানা, দক্ষিনখান, বিমানবন্দর, উত্তরখান ও খিলক্ষেত থানা এলাকায় ইয়াবা বিশাল আস্তানা হয়েছে। উত্তরা জোনে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন ও বিক্রির সাথে বিশাল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। নামি-দামি বিশালবহুল কার, মোটরবাইক, দামী প্রাইভেটকার, জীপ গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এবং সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে নিয়ে আসছে এই ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান। দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা কুমিল্লা, আখাউড়া, লাকসাম, বি-বাড়িয়া, ভৈরব, সিলেট, কক্সবাজারের টেকনাফ, মিয়ানমার, খুলনা, বরিশালসহ নদীপথ এবং আকাশপথে ঢাকায় আসছে মাদকের বড় বড় চালান। অনেক সময় কাকড়া, কুইচছা, ও মাছের ড্রামের ভেতরে করে গভীরও ভোর রাতে নলভোগ ও তারারটেক গ্রামে ঢুকছে মাদকের চালান। সে কারণেই তুরাগ-উত্তরা এলাকায় কোন অবস্থায় ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ রোধ করা যাচেছনা। দিন দিন মাদক ব্যবসা আরও বেড়েই চলেছে। হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছোট বড় ৩৩টি গ্রামের পাড়া মহল্লা এখন ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের জবরদখলে চলে গেছে।
প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গোপনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরী করে প্রকাশ্যে দিবালোকে এই মরণনেশা ইয়াবা তরুন সমাজ, শিক্ষার্থী, যুবসমাজ, সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের হাতে পৌছে দিচেছন। কোন কোন ক্ষেত্রে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে ও গ্রেফতারের ভয়ে খুঁচরা ব্যবসায়ীরা রাত-দিন সেবনকারীদের নিজ নিজ অবস্থান ও বাসা বাড়িতে (হোম সার্ভিসের নামে) গোপনে পৌঁছে দিচেছন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরজমিনে অনুসন্ধ্যান ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা গেছে, তুরাগের মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তের পরিবারের কিশোরদের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের দিয়ে ইয়াবার হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কতিপয় কিছু মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা নিজ নিজ এলাকায় সিন্ডিকেট তৈরী করেছে। ইয়াবা ডিলার ও খুচঁরা ব্যবসায়ীদেরকে শেল্ডার দেয় এলাকার বেশ কিছু বড় ভাইয়েরা। তারাই সব কিছু নিয়ন্ত্রন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে মাদকের টাকা আগেই পেমেন্ট করে দিতে হয় মাদকসেবীদের। আর এ কাজটি সবচেয়ে বেশী হয় বিকেল ও সন্ধ্যায়। আর ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান আসে মধ্যরাতে এবং ভোরে। ডিএসসিসি ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের অনেক মাদক কারবারি অল্পদিনের ব্যবধানে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে গেছেন। গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমান সম্পদ, ব্যাংক ব্যালেঞ্জ ও বিষয় সম্পত্তি। আবার কেউ অবৈধ টাকা রোজগার করে রাতারাতি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাড়ি ও গাড়ি কিনে জীবনযাপন করছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ইয়াবাসেবী। একটানা মাত্র দুই-আড়াই বছর ইয়াবা সেবনের ফলেই তারা মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের নার্ভগুলো সম্পূর্ণ বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাদের অনেকেরই মস্তিস্কের ভারসাম্যতাও বিনষ্ট হওয়ার পথে। পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে দিন দিন ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। আসক্ত তরুণ-তরুণীরা অধিকাংশ উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইতোমধ্যেই দেশে ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও ধারণা করছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।
স্থানীয়দের মতে, তুরাগের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি দেদাচ্ছে চলছে। সে কারণে কিশোর, যুবক ও তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলছে। এছাড়া পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, নারী- শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিনকে দিন বাড়েই চলছে। পুরো তুরাগের তারারটেকসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা এখন ‘ওপেন সিক্রেটে’ পরিণত হয়েছে ।
এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তুরাগ থানার তারারটেক, ডিয়াবাড়ী, চণ্ডাল ভোগ, নলভোগ, নয়ানগর, কামারপাড়া, রানাভোলা, ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে অনেক ভালো ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান পর্যন্ত এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকই আজ তুরাগ থানা এলাকার অধিকাংশ অপরাধের মূলকারণ। একসময় যে তুরাগ ছিল শান্তিপূর্ণ বসবাসের প্রতীক, আজ সেখানে মাদকের সহজলভ্যতা তৈরি করেছে গভীর আতঙ্ক ও সামাজিক অস্থিরতা। লাগামহীন এই মাদক আগ্রাসনে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এলাকার কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে। নেশার জালে আটকে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় জীবন, ভেঙে পড়ছে পরিবার, আর সমাজে বাড়ছে অপরাধের ভয়াবহতা। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, অফিসগামী মানুষের ব্যস্ততা, সন্ধ্যায় পরিবারের হাঁটাহাঁটি—সবকিছুই বাহ্যত স্বাভাবিক। কিন্তু এই চেনা দৃশ্যপটের আড়ালেই গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অদৃশ্য সাম্রাজ্য।
তথ্য অনুসন্ধান, এলাকাবাসী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য ও ভুক্তভোগীরা জানান, তুরাগের তারারটেক এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো -ছালমা আক্তার ছলে স্বামী নিয়ামত, মো: হৃদয় পিতা কাশেম, নাজমা স্বামী কাশেম, স্বপ্না পিতা কাশেম, আছিয়া স্বামী : মৃত হক , সামীম, আতাউর রহমান আতা, শাহীন পিতা : মৃত হক সাহেব, অহিদা, স্বামী : আশরাফ উদ্দিন, আসিতন, স্বামী আহসান উল্লাহ, সবুজা স্বামী মৃত আলী আহমদ, জুয়েল পিতা মৃত আলী আহমদ, দেলোয়ার হোসেন দেলু ও স্ত্রী আছমা পিতা মৃত আলম, আবুল হোসেন স্ত্রী সহ পুতা মৃত আলমাছ, আয়নাম স্ত্রীসহ পিতা মৃত আলেক চান, মালেক স্ত্রী সহ আলিম উদ্দিন, আহসান হাবিব হাসান পিতা জিন্নাত আলী প্রমুখ। এছাড়া ডিয়াবাড়ী এলাকার ইয়াবার ডিলার ও মাদক ব্যবসায়ীর হলো- ডিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদির এর পুত্র মো: ফাহাদ (৩৮), একই এলাকার মো: আলমাছ মিয়ার ছেলে মো: হানিফ (৪০), তাদের সহযোগী ফজলু মিয়ার পুত্র মো: আসিফ মিয়া ও তারারটেক গ্রামের মাসুদ রানা সিন্ডিকেটের গংরা জড়িত। এদের মধ্যে অনেকই অসামাজিক কার্যকলাপের সাথেও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ফাহাদকে ৪-৫ দিন আগে তার বাড়ি (ঘর) থেকে তুরাগ থানা পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে স্থানীয় ভাঙ্গারী দোকানদার মোস্তফার মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা রফাদফা (টাকার বিনিময়ে) ছাড়িয়ে রাখে। ঘটনার সময় তাদের নাইট গার্ড আলাল প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষী ছিল। দোকানদার মোস্তফা ও এই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে । স্থানীয় পুলিশের সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে। তারারটেক এলাকার আব্দুল কাদির ওরফে (পোড়া কাদির) পিতা-মৃত আব্দুর রহিম ফাহাদকে ইয়াবা সাপ্লাই দিয়ে থাকে।
এদিকে রাজধানীর তুরাগ থানা অন্তর্ভুক্ত ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড চণ্ডাল ভোগ গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা হলো- মো: মোখলেসুর রহমান ওরফে কালো মুখলেস, পিতা মৃত আব্দুল সাত্তার তার অজ্ঞান নামা স্ত্রী, একই এলাকার শাহেন শাহ, আব্দুল মান্নান, রবিউল ইসলাম, পিতা মৃত আরব আলী, আবদুল কাদের, মজিবুর, ইসমাইল, মানিক, মো: রাজু, আলা উদ্দিন, মো: শাহীন, আলী, কফিল উদ্দিন, চোরা নাসির, রনি, বিশু ও মো: রুবেল প্রমুখ। এছাড়া নলভোগ গ্রামে ইয়াবা মাদকবারি দিপু, ১০ নম্বর সেক্টর , রানাভোলা, সিরাজ মার্কেট, তিতাস পাড়া, ফুলবাড়িয়া বালুর মাঠে মাদকের ডিলার হিসেবে, রাজু ,কালু, মিজান, শামীম, আলাল, জমির, রাকিব , নাঈম ,আরিফ, শ্রাবণ, বিদ্যুৎ, শিপন ও হীরা প্রমুখ। ১১ নম্বর সেক্টর আফরোজা সুলতানা সুমি ওরফে ইয়াবা সুমি, রত্না, মৌসুমি, মোছাম্মদ রুমানা বেগম, রুনা পারভিন (৩৯), ইয়াবার ডিলার শাহীন, শাকিল অহমেদ, তুরাগের যাত্রাবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নান, ইয়াবা রনি, মিজানুর রহমান, কবির হোসেন, মিলন মিয়া ও টোকাই শাহ আলম প্রমুখ । এদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, মাদক ব্যবসা মামলা সহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি উত্তরা ১৫ নং সেক্টর পাসপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে বালুর মাঠ বস্তিতে সরকারি রাস্তা দখল করে সেখানে দেদাচ্ছে মাদক ব্যবসা করে আসছে হাফসা নামে এক নারী। তার সাথে সহযোগী হিসেবে আছে তার স্বামী ও ছেলে। ২০১৮ সাল থেকে হাফসা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কুখ্যাত নারী মাদক কারবারি হাফসা ও তার স্বামী এবং ছেলের নামে অসংখ্য মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে । খিলক্ষেত নিকুঞ্জ এলাকার মাদক কারবারিরা হলো- নূর হোসেন লাল, তার ভাই বাবুল, মোফাবাবু তার ভাই জিসান, তোফাজ্জল হোসেন বাবুর্চির ছেলে দেলোয়ার, টানপাড়ার মুসলিম কাঁচা বাজার সংলগ্ন নবী হোসেন ও সবুজ, মধ্যপাড়ার কাঠমিস্ত্রি রিপন, আইজ্জার বস্তির খোরশেদ ও আসিফ মানিক। এদের নামে সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একজন নারী মাদক ব্যবসায়ী হাফসার খুঁটির জোর কোথায়? কে তার আশ্রয় ও শেল্টারদাতা। তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করলেই তিনি ও তার সঙ্গীরা ওই সাংবাদিককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী হাফসা বলে নিউজ করে কি আমার বা/ল ফা/লাবি,,,? অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। হাফসার ভাষ্য- আমি থানা পুলিশকে ম্যানেজ ও মাসোয়ারা দিয়েই মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করি!
সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর জোর দাবি—তুরাগের ছোট বড় ৩৩টি গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাত বন্ধ করতে এখনই বিশেষ ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো প্রয়োজন। শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত টহল, গোপন নজরদারি, চিহ্নিত হটস্পটে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে কক্সবাজার থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে ইয়াবা আনছে। ইয়াবা আনতে তারা নিত্য-নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা জুতা, টুপি, মাছের পেট, ফুল, শরীরের বিশেষ অঙ্গসহ গণপরিবহনে, প্রাইভেট গাড়িতে, পণ্যবাহী ট্রাকে, গণপরিবহনের শ্রমিকদের মাধ্যমে আবার কখনও কখনও নারীদের অন্তর্বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রে তাদের দলে মাদক সরবরাহ করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীও রয়েছে। যারা বিশেষ পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে।
ইতিহাস থেকে জানা গেছে, একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ সমাজ। রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা, সামাজিক পরিবর্তন কিংবা মুক্তির প্রতিটি অধ্যায়ে তরুণদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অথচ আজ সেই তরুণ সমাজই মাদকের আগ্রাসনে দিশেহারা। ঢাকা -১৮ আসনের মধ্যে জনবহুল তুরাগ থানার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যখন তরুণরা মাদক ব্যবসা, কিংবা নিয়মিত সেবনে জড়িয়ে পড়ছে, তখন তা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত।
এ বিষয়ে ডিএমপির তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তুরাগ থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক সেবন, বিক্রি ও যারা এ পেশার সাথে জড়িত তাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, মাদকের আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা পুলিশের অঙ্গীকার। মাদক সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য সরাসরি জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)
এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপস্ এবং মিডিয়া অফিসার) শাহ আলম জানান, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদক,, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রবাজ, পাচারকারী, সহ নানাবিধ অপরাধীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য কাজ করে যাচেছন।
তিনি আরও জানান, র্যাব প্রথম থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত মাদকব্যবসায়ী, ডিলার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক না কেন এবিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। ইতোপূর্বে র্যাব-১ তুরাগ এলাকা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছিল।
পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গেল (১ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তুরাগ থানার কুখ্যাত মাদকপল্লী তারারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার ৫০০ টাকাসহ মো: জীবন (২২) এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে সংশ্লিষ্ঠ থানা পুলিশ।
এরআগে ২০২৫ সালের (২৭ মে) দুপুরে উত্তরা পূর্ব থানার বিএনএস টাওয়ারের পাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক কারবারি রুনা পারভিন (৩৯)কে গ্রেফতার করে ডিএমপির ডিবি-উত্তরা বিভাগ।
এরআগে ২০১৭ সালের (১১ ডিসেম্বর) ভোরে তুরাগের দক্ষিণ রাজবাড়ী এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের ‘বি’ ব্লকের পাঁচ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট বেলাল উদ্দিন (৫০)কে গ্রেফতার করেছিল এলিট ফোর্স র্যাব-২, এর সদস্যরা। আটক বেলালের গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার নলডাঙ্গা থানার বাসুদেবপুরে। তার বাবার নাম মৃত কোরবান আলী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির উত্তরা বিভাগের পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা হল একটি মরণব্যাধি। নতুন প্রজন্মের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বাঁচাতে হলে এখন থেকে ইয়াবা পাচার, সেবন, ও বিক্রি ঘরে ঘরে বন্ধ করতে হলে সবাইকে ঔক্যবদ্ব ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারের পিতা-মাতাদেরকে এবিষয়ে বেশি বেশি সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, ইতি মধ্যে পুলিশ তুরাগ, উত্তরা সহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট, মদ, গাঁজা, বিয়ার, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী, অবৈধ বিদেশি নাগরিক (অপরাধী) ও নারী এবং ম্যাসেজ পার্লার ব্যবসায় জড়িত অনেককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।
এবিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এস, এম জাহাঙ্গীর হোসেন রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন স্থানে সভা সমাবেশ এবং সেমিনারে ইতিমধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান করেছে এবং প্রশাসনকে তাগাদা দিয়েছে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য।
এব্যাপারে অবৈধ মাদক ব্যবসা বন্ধে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) , র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ডিজি, ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারসহ সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি ও সচেতন মহল।
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৫:২৯ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৪৪ |
| যোহর | দুপুর ১২:৫৪ |
| আছর | বিকাল ৪:২১ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:০৩ |
| এশা | রাত ৮:১৯ |