
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সঠিক চিকিৎসাই স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে কলেজটির ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ ডে’ এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এই কলেজের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার আগমনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মেডিকেল কলেজে যান। প্রথমে বেলুন উড়িয়ে ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডিএমসি ডে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সহধর্মিণীকে নিয়ে যান ছাত্রী কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে। এই হোস্টেলে ছিলেন জুবাইদা রহমান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী।
১৯৪৬ সালের এদিনে ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। জাতীয় সংগীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওপরে একটি প্রমাণ্য চিত্রে উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথম দুই ঘণ্টা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিল্পীর আঁকা আলোকচিত্র উপহার দেয়া হয়। আলোচনা সভার মূল অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রী হলের চলমান প্রকল্পের তথ্যদি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ক্যাম্পাসে দুই গাছের চারা রোপণ করেন।বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রত্যাশা করি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এখন যেহেতু সরকারের পরিচালনার দায়িত্বে আছি, আমি ডাক্তারদের কাছে যারা বর্তমানে চিকিৎসক আছেন, ডাক্তার আছেন, যারা ডাক্তার হবেন- প্রত্যেকের কাছে আমার একটা প্রত্যাশা আছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্লাস মাইনাস ফাইভ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে বিদেশে চিকিৎসার জন্য। আমাদের দেশের লাখ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। তার ফলে আমাদের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সেই সঙ্গে চলে যাচ্ছে। আপনাদের (চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের) কাছে আমার প্রত্যাশা যে, আমরা কেন পারবো না এই পরিস্থিতিটির পরিবর্তন করতে? কেন আমাদের ডাক্তারদের ওপরে দেশের মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাস দৃঢ়তর করতে আমরা পারবো না।
তিনি বলেন, এই পরিবর্তন আমরা কোনো আইন দিয়ে করতে পারবো না। এটি আমরা কোনো প্রতিষ্ঠান দিয়ে করতে পারবো না। এটি একমাত্র সম্ভব হবে আপনাদের মানবিক অ্যাপ্রোচ এবং আপনাদের সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে। আজকে অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুধু ডিএমসি না বাংলাদেশের প্রত্যেকটি হসপিটাল বা প্রত্যেকটি মেডিকেল কলেজের যারা চিকিৎসক আছেন, যারা শিক্ষার্থী আছেন- আপনাদের সকলের কাছে এই পরিবর্তনটি অর্থাৎ দেশের মানুষ আমার দেশের চিকিৎসকদের ওপরে সম্পূর্ণ এবং বিশ্বাস রাখবে ভবিষ্যতে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ একটি ইতিহাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ আমরা যদি চিন্তা করি, এটা শুধু মেডিকেল কলেজ না, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এটা একটা ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এখানে আমরা একটু আগে যে ডকুমেন্টারিটা দেখলাম, সেই ডকুমেন্টারিটা বিবেচনা করি তাহলে আমরা দেখবো যে, আসলে এটা ইতিহাসের একটা সাক্ষী। এই ডকুমেন্টারিতে দেখেছি ১৯৫২ সালে কীভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ আমাদের সেই ভাষা আন্দোলনের অবদান রেখেছে। আমরা দেখেছি, সেখানে আমরা জানি ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কীভাবে সেখানে অবদান রেখেছে। ’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সেই আন্দোলনকে সফল করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ কীভাবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে এবং সবশেষে আমরা দেখেছি ২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট অর্থাৎ জুলাই আন্দোলনে কীভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রত্যেকটি চিকিৎসক প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কীভাবে সেই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন, কীভাবে সেদিন আহত শহীদ মানুষগুলোর পাশে তারা দাঁড়িয়েছিলেন, চিকিৎসা নিয়েছিলেন প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে।
তিনি আরও বলেন, এই ক্যাম্পাস থেকে শুধু দেশের ভেতরেই হোক, দেশের বাইরেও আমরা জানি বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে বিভিন্ন শিক্ষার্থী আসেন। আমরা যে শুধু ভালো চিকিৎসকই তৈরি করেছি শুধু তা নয়। এখান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজ নেতা মুক্তিযোদ্ধা এরকম অনেক মানুষকে তৈরি করিয়েছি আমরা, এই ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যবাহী মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমি সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যারা বিভিন্নভাবে জড়িত প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।
সরকারপ্রধান বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই যে যাত্রা, এই যাত্রাপথে দেশের সকল প্রান্তের সকল মানুষের কাছে কোনো না কোনোভাবেই মেডিকেল কলেজ পরিচিত। বিশেষ করে রাজধানীর মানুষের সার্বক্ষণিক একটা নির্ভরতার প্রতীক হচ্ছে এই ঢাকা মেডিকেল কলেজ। এই হাসপাতালের কোনো একটি কক্ষে এটাও আমরা দেখেছি, যা ডকুমেন্টারিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কক্ষে অথবা করিডরে প্রতিদিন এরকম অনেক মানুষ আছে, কেউ হয়তো আনন্দে ভরে উঠছে। আবার বেদনাতেও ভরে যাচ্ছে যার মন। নতুন জীবন স্পন্দন যেরকম এখানে তৈরি হচ্ছে। একইভাবে হয়তো এখানে অনেক জীবনের আলো নিভে যাচ্ছে। স্টেথোস্কোপের এক প্রান্ত যখন একজন ডাক্তারের কানে থাকে ঠিক অন্য প্রান্তে তখন স্পন্দিত হয় একটা মানুষের জীবন। চিকিৎসক এবং রোগীকে ঘিরে আবর্তিত হয় একটা পরিবারের অগাধ বিশ্বাস।
চিকিৎসকদের মহান পেশার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা যারা নন ডাক্তার আমাদের চিন্তাভাবনায়, আপনাদের আমরা এমন একজন মানুষ হিসেবে চিন্তা করি, যা করছে একটা ভরসা পাই, একজন পরম বন্ধু হিসেবে। বিশেষ করে মানুষ কখন যায় আপনাদের কাছে? মানুষ আপনাদের কাছে যায় কিন্তু বিপদে পড়লে। একজন মানুষ বিপদে পড়ে যখন আরেকজন মানুষের কাছে যায় তখন কিন্তু সে সেই মানুষটাকে তার ভরসার আশ্রয়স্থল মনে করে বলেই চিকিৎসকের কাছে যায়। ‘চিকিৎসকরাই কিন্তু রোগের শোকে কাতর মানুষের বড় বন্ধু হয়ে ওঠে, এই কথাটি আমি আমার জীবনেও উপলব্ধি করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশেরই প্রখ্যাত কয়েকজন চিকিৎসক আমার মাকে (বেগম খালেদা জিয়া) অনেকগুলো বছর ধরে চিকিৎসা দিয়েছে। প্রত্যেক মুহূর্তে উনারা তাকে টেককেয়ার করেছেন। উনি মৃত্যুর কিছুদিন আগে বিদেশে গিয়েছিলেন। এখানে ডিবেট হচ্ছিল আমাদের মধ্যে যে, আবার উনাকে নেবো কি নেবো না, আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা বলেও ছিলাম বিভিন্ন মানুষকে, যে আপনারা উনাকে নিতে চাচ্ছেন কিন্তু এখানে যে চিকিৎসকরা উনাকে যেই সেবাটা দিচ্ছে চব্বিশটা ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্ত। আমি দেখেছি, বিদেশে গেলে হয়তো টেকনিক্যাল সাপোর্টটা ভালো পাওয়া যাবে, ভালো ইকুইপমেন্ট, এডভান্স ইকুইপমেন্ট আছে। ওষুধপত্রের ব্যাপারে খুব হয়তো ডিফারেন্স থাকবে না। কিন্তু এই যে হিউম্যান টেককেয়ার যেটা আমি মনে করি না, এটা বিদেশে গেলে পাওয়া যেতো কোনোভাবেই।
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নতুন চিকিৎসক নিয়োগ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তথা চিকিৎসক, নার্স এবং সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর ভেতরে যেটি আলাপ-আলোচনা হয়েছে, আমাদের প্রত্যেকটা স্বাস্থ্য উপজেলা কমপ্লেক্সে আমরা ব্যবস্থাটা জোরদার করেছি। কিছুদিন আগে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের অনুষ্ঠানে আমাদের যারা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কাজ করেন সরকারি চিকিৎসকরা, তারা এটি বলেছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আমি সেই ব্যবস্থাটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছি। ব্যাপারটি ধীরে ধীরে আমরা সিচুয়েশনটি নিশ্চয়ই উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি। এর বাইরে আমরা হাসপাতালগুলোতে এই চিকিৎসা এই সিকিউরিটির জন্য অর্জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের যেমন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এর বাইরেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা আরও ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম আমরা শুরু করেছি। পাশাপাশি আমরা নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিড ওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবী যেগুলো বিদ্যমান আছে, একটা শূন্য পদ দ্রুততার সঙ্গে যাতে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যায়, সেটির প্রক্রিয়ার কাজও আমরা শুরু করেছি। আমরা একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছি। যাতে করে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা এবং হাসপাতাল পর্যায়ে নিরাপদ মাতৃত্ব এবং দক্ষ প্রসবসেবা এবং নবজাতকের মানসম্মত পরিচর্চা নিশ্চিত এবং নিরাপদ করা যায়।
তিনি বলেন, প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর, এটা আমরা প্রত্যেকে জানি। সরকার এই নীতিতে সবার কাছে আমরা স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসাসেবা এই নীতির ভিত্তিতে আমরা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। এখানে একটু আগে একজন ডাক্তার বলেছেন, উনার বক্তব্যে যে দুইদিনে ৮শ’ রোগীকে আপনাদের টেককেয়ার করতে হয়েছে। যেটা একজন ডাক্তারের জন্য আসলেই একটা অমানবিক অবস্থা হয়ে উঠে অনেক সময়। সেজন্যই এই চিন্তা থেকেই এবং ডা. জুবাইদা (স্ত্রী) উনি ইম্পেরিয়াল (বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে এমএসটা করেছিলেন সেটা উনার ছিল প্রিভেনশনের উপরে। উনি যখন পড়তেন দেখতাম আমি বিষয়টা এবং তখন থেকে আমার মাথায় ঢুকেছিল ব্যাপারটা যে, কখনো যদি সুযোগ হয় আমরা এই দিকটাতে নজর দেবো, এড্রেস করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি দেশে সামগ্রিকভাবে কম সংখ্য মানুষ অসুস্থ হয় এবং মেডিকেল কলেজে আসার আগ পর্যন্ত এই মানুষগুলোকে প্রাইমারি চিকিৎসা দিয়ে মোটামুটিভাবে সুস্থ করে ফেলা যায় তাহলে মেডিকেল কলেজে চাপটা কমে আসবে। সেজন্যই আমরা হেলথকেয়ারার নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই হেলথকেয়ারার যারা হবেন তারা যাবেন, আমাদের দেশে মোটামুটিভাবে কয়েকটি অসুখ-বিসুখ যেমন কার্ডিয়াকের ব্যাপার, কিডনির ব্যাপার, ডায়াবেটিকের বিষয়। অর্থাৎ লাইফস্টাইলটা কেমন হলে, কী কী খাদ্যদ্রব্য পরিহার করলে, কী কী খেলে এগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, আমাদের এই হেলথকেয়ারারদের আমরা এই বেসিক ট্রেনিংগুলো দেবো। প্রশিক্ষণের পর তারা ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের যদি সচেতন করে আমরা আশাকরি, আজকেও যদি কাজটা শুরু করে এটা আগামী ১০ বছরের মধ্যে একটা ইফেক্ট আমরা পাবো এবং সেক্ষেত্রে আমাদের ডাক্তারদের ওপর একসময়ে চাপ কমে আসবে, রাষ্ট্রের খরচ চিকিৎসার ক্ষেত্রের খরচ সবকিছুর উপরে আমাদের চাপটা কমে আসবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যারা চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যারা আসন্ন দিনে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পথে রয়েছেন দেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান সরকারের কতোগুলো বিষয় আপনাদের সামনে মনে হয় আরেকটু যদি স্পষ্ট করে তুলতে পারি। এ বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি, আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, ৫ বছরের মধ্যে এটা জিডিপির ৫% এ নিয়ে যাবো।”
বাজেটে চিকিৎসা সামগ্রীর উপকরণেরও শুল্ক হ্রাস এবং উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর শয্যাসংখ্যা ১০১ বেডে উন্নীত করা এবং হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সেখানে সোলার সিস্টেম চালু করার সরকারের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শিশু স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই কিন্তু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশু স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কিন্তু আমাদের সরকার গুরুত্ব আরোপ করছে। বেশকিছু বিল্ডিং তৈরি হয়েছিল, বরিশালে, রাজশাহীতে, ২শ’ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল শিশু হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল। মোট ৫টি শিশু হাসপাতাল সারা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল, বহু বছর যাবৎ বিল্ডিংগুলো পড়ে আছে। আমরা এগুলো দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করছি। এসব হাসপাতালে চালু হলে শিশুরা চিকিৎসাসেবা পাবে। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এগুলো চালু করবো।
মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে কিন্তু মেডিকেল ওয়েস্ট বা মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানসম্মত সাইন্টিফিক ডিসপোজ কিংবা অপসারণের বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি এখানে সবাই একটা ইন্সপেকশনে বের হই ঢাকা মেডিকেল কলেজে যদি রাউন্ড দেই, সবগুলা করিডর যদি চুপি চুপি ঘুরি আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে সবাই আমরা একটু লজ্জাই পাবো খুব সম্ভবত। এখানে আমার মনে হয়, শুধু যে যারা এই কাজটার সঙ্গে জড়িত এখানে, শুধু যে তাদের দায়িত্ব তা না। এটা আমার মনে হয় আমাদের সকলের দায়িত্ব। এটা একটা কমনসেন্সের ব্যাপার।
তিনি বলেন, আপনি শুধু নিজের ঘরটা নিয়ে বাসাটা নিয়ে, আপনি ঘরটা বাড়িটা নিয়ে যদি চিন্তা করুন। ধরেন আপনার বাড়িতে আপনারা পাঁচ/ছয় জন মানুষ থাকেন। আপনার ফ্যামিলি মেম্বার পাঁচ ছয়জন। আপনার একার দায়িত্ব হচ্ছে পরিষ্কার করার। আর সবার দায়িত্ব ময়লা করার, এভাবে যদি চিন্তা করেন। বলেন তো তখন কেমন লাগবে? ইজ ইট পসেবল? ঠিক হসপিটালের বিষয়টাও সেরকম। ডাক্তার বলুন, নার্স বলুন, শিক্ষার্থী বলুন, আমার মনে হয় এই বিষয়টা সবাই যদি আমরা সচেতন হই, বোধহয় আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুসররাত সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল শাহীন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়া হায়দার, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক নাজমুল হাসান।
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৫২ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:১৯ |
| যোহর | দুপুর ১:০৪ |
| আছর | বিকাল ৪:২৪ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪৯ |
| এশা | রাত ৯:১৫ |