
জালাল আহমদ, ঢাবি প্রতিনিধি:জুলাই বিপ্লবের সময় লড়াইয়ের সম্মুখভাগে নারীদের উপস্থিতি ছিল অগ্রগণ্য।সেই বিপ্লবী নেত্রীদের অনেকেই পরবর্তীতে হারিয়ে গিয়েছিলেন । পর্দার আড়ালে চলে যাওয়া সেই বিপ্লবী নারীদের উপস্থিতিতে নারী শক্তির “নারী সমাবেশ” পরিণত হয় জুলাইয়ের বিপ্লব নারীদের মিলনমেলায়।
গতকাল ১৪ জুলাই (২০২৬) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশে (আইডিইবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারী সমাবেশের আয়োজন করেছিল এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তি।
জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মাঠে নামা সাহসী নারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিনয়শিল্পী, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে জুলাইয়ের না-বলা গল্পগুলো শুনতে এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় নারীশক্তির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ‘জুলাই নারী সমাবেশ–২০২৬’।
সারাদেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের খোঁজে খোঁজে বের নারী শক্তির নারী সমাবেশে হাজির করিয়েছেন নারীশক্তির নেতৃবৃন্দ ।
নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাফিয়া রেহনুমা হৃদির সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ।
সমাবেশে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন
এনসিপির মনোনয়নে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, নারী শক্তির সদস্য সচিব ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ডাক্তার মাহমুদা মিতু,ডাকসুর সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া,এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা ঝুমা, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহরিয়া ফিদা,স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী নুসরাত জাহান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন প্রমুখ ।
সেই সমাবেশে অংশ নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের আলোচিত নারীদের অনেকে নিজেদের হতাশা ও অপ্রাপ্তির কথা বললেন।ভাইরাল হওয়া সেই ছবিগুলো নিজেই ঘটনার ব্যাখ্যা দেয়।অন্তত কেউ ছবিগুলো দেখে এর পেছনের গল্প ধরে বুঝতে পারেন।
জুলাই বিপ্লবের সময় ৩১ জুলাই দুপুরে “মার্চ ফর জাস্টিস” এ ঢাকায় আন্দোলনকারীরা হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু নির্বিচারে গ্রেপ্তারের কারণে সবাই বাড়ি থেকে বের হতে সাহস পায়নি। তবে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পাঁচজন শিক্ষার্থী তা করার সাহস করেন। তারা হলেন নূর, ইফাজ, বিধান, নুসরাত ও উমাইদা।পুলিশ ছেলেদের আটক করতে শুরু করে।
পুলিশ স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র নুর কে আটকের চেষ্টা করলে নূরের ঠিক পাশে থাকা নুসরাত নূরের হাত শক্ত করে ধরে রেখে পুলিশকে আটকানোর চেষ্টা করেন। নূরকে নিয়ে পুলিশ প্রিজন ভ্যানের দিকে এগিয়ে গেল।
পুলিশ অবশেষে নূরকে ভ্যানে তুলে নেয়। এর ভিতরে আরও তিনজনকে দেখতে পান নুসরাত ।পুলিশের ভ্যানের সামনে নুসরাত একা দাঁড়িয়ে সেটি হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে।সেই মুহুর্তে নুসরাত চিৎকার করছিল: “চালান! আমার ওপর দিয়ে চালান।” তার কাঁধে একটি ব্যাগ, চোখে চশমা, নুসরাতের ছবি “প্রতিরোধের প্রতীক” হিসেবে দ্রুত সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আলোচিত সেই নুসরাত গতকাল নারী সমাবেশে অংশ নিয়ে
বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সময় আমি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজির ছাত্রী ছিলাম । আমি এখন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ।জুলাই বিপ্লব আমাকে সাহস দিয়েছে । আমি আইন পেশায় যুক্ত হয়ে মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করতে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছি ।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন শিক্ষার্থী।তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে পরীক্ষামন্ত্রী বলে কটাক্ষ করেন ।
চট্টগ্রামের মেয়ে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহরিয়া ফিদা জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন । তিনি সেই বিপ্লবী চরিত্র এখনো ধরে রেখেছেন ।গতকাল নারী সমাবেশের বক্তৃতায় তিনি বিএনপির চাঁদাবাজি ও সাইবার বুলিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন । তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে নারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক ভয়ের কথা জানান ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়। আর সেই জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ছাত্র, গৃহিণী, চাকুরিজীবী থেকে শুরু করে মায়েরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন, এই সমাবেশ যেন সেই চেনা মুখগুলোকে আবার এক সুতোয় বেঁধেছে।এই সমাবেশ আসলে শুধু একটি জমায়েত নয়, এটি এক বুক সাহস আর প্রতিরোধের এক মহাকাব্যিক উদযাপন।
জুলাই বিপ্লবের প্রেরণা ও সাহস জোগানো গান “মুক্তির মন্দির সোপানে তলে” গানটি দিয়ে সমাবেশ শেষ হয় রাতে।
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ | |
| ওয়াক্ত | সময় |
|---|---|
| সুবহে সাদিক | ভোর ৪:৫৫ |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:২০ |
| যোহর | দুপুর ১:০৪ |
| আছর | বিকাল ৪:২৫ |
| মাগরিব | সন্ধ্যা ৭:৪৮ |
| এশা | রাত ৯:১৪ |